HSC ব্যবসা উদ্যোগ ১ম পত্রঃঅংশীদারি ব্যবসায়

চতূর্থ অধ্যায়ঃ অংশীদারি ব্যবসায়

 প্রশ্ন: রনি, জনি ও তাদের আরও ৫ বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কম্পিউটার ব্যবসায় শুরু করলেন। সুমি কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞানে পারদর্শী। সে কারণে এ ব্যবসায়ে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সুমি কোনো মূলধন সরবরাহ করেনি। হঠাৎ রনি পাগল হয়ে গেলে তাদের ব্যবসায়টি জটিলতার সম্মুখীন হয়।      [দি. বো. ১৭]

 ক.         ঘুমন্ত অংশীদার কাকে বলে?        ১

 খ.          নাবালক কি অংশীদার হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।  ২

 গ.          উদ্দীপকের সুমি কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।   ৩

 ঘ.          রনি পাগল হওয়ায় ব্যবসায়টির কীরূপ বিলোপসাধন ঘটবে? তোমার মতামত দাও। ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন সরবরাহ করে এবং লাভ-লোকসান ভোগ করে, কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত বা নি®িক্রয় অংশীদার বলে।

 খ আইন অনুযায়ী নাবালক অংশীদার হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নাবালক আইনানুযায়ী অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সব অংশীদার সম্মত হলে সাবালকত্ব প্রাপ্তি পর্যন্ত নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নাবালক বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত দায় বহন করবে।

 গ উদ্দীপকের সুমি একজন কর্মী অংশীদার।

কর্মী অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না। শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে ব্যবসায়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। চুক্তি অনুযায়ী এরা অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশ নেয় এবং অসীম দায় বহনেও বাধ্য থাকে। 

উদ্দীপকের রনি, জনি ও তাদের ৫ বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কম্পিউটার ব্যবসায় শুরু করলেন, যা অংশীদারি ব্যবসায় হিসেবে গঠিত হয়েছে। সুমি কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞানে পারদর্শী। এ কারণে তাকে ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে সে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেনি। শুধু নিজস্ব কর্মদক্ষতার জন্যই এ ব্যবসায়ে তাকে অংশীদার করা হয়েছে। যাতে ব্যবসায়টি দক্ষভাবে চলে এবং অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। অন্যান্য অংশীদারের মতোই সে ব্যবসায়ের লাভে অংশগ্রহণ করে। এসব বৈশিষ্ট্য কর্মী অংশীদারের কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সুমি একজন কর্মী অংশীদার।

 ঘ উদ্দীপকের রনি পাগল হওয়ায় ব্যবসায়টি আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন হবে।

আদালতের নির্দেশে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হতে পারে। সাধারণত কোনো অংশীদার পাগল হলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে কিংবা ব্যবসায় পরিচালনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে আদালত ঐ ব্যবসায় বিলোপসাধনের নির্দেশ দেয়।

উদ্দীপকের রনি, জনি ও তাদের ৫ বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছেন। হঠাৎ রনি পাগল হয়ে গেলে তাদের ব্যবসায়টি পরিচালনায় জটিলতার সম্মুখীন হয়।

উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়ে রনি একজন অংশীদার। তার মস্তিষ্ক বিকৃতি হওয়ায় সে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়ে। অন্য অংশীদারগণও আইনানুযায়ী ব্যবসায় চালাতে পারবেন না।

অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে আদালতের নির্দেশে ঐ ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হয়। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশেই এ ব্যবসায়ের বিলোপসাধন করতে হবে। সুতরাং বলা যায়, রনি পাগল হওয়ায় ব্যবসায়টির আদালতের নির্দেশেই বিলোপ ঘটবে।

 প্রশ্ন: রফিক, শফিক ও করিম একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। রফিক ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন ও পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করেন। শফিক মূলধন বিনিয়োগ করেন কিন্তু পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। করিম মূলধন বিনিয়োগ করেন না আবার পরিচালনায়ও অংশ নেন না। তবে ব্যবসায়ে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। হঠাৎ রফিক মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে কর্তব্য পালনে স্থায়ীভাবে অসমর্থ হন।     [কু. বো., চ. বো. ১৭]

 ক.         ক্রেডিট কার্ড কী?             ১

 খ.          ই-ব্যাংকিং বলতে কী বোঝ?          ২

 গ.          করিম কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।       ৩

 ঘ.          উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? যুক্তিসহ লেখো।          ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক চুম্বকীয় শক্তিসম্পন্ন যে প্লাস্টিক কার্ড ব্যাংক তার গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন, ঋণ সুবিধা প্রদানসহ বাকিতে পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করে তাকে ক্রেডিট কার্ড বলে।

 খ আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি দ্রুত, নির্ভুল ও বিস্তৃত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করাকে ই-ব্যাংকিং বলে।

ইন্টারনেট নির্ভর কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা যায়। এক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে ও ব্যয়ে অর্থ জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর এবং লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। আবার ই-ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে অঞগ (অঁঃড়সধঃবফ ঞবষষবৎ গধপযরহব) কার্ড ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকের বুথ থেকে লেনদেনের সুবিধা প্রদান পাওয়া যায়।

 গ উদ্দীপকের করিম একজন নামমাত্র অংশীদার।

নামমাত্র অংশীদার মূলধন, শ্রম ও দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করে না শুধু তার নামটি ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেন। তবে অন্যান্য অংশীদারের মতো অসীম দায় বহনে তিনি বাধ্য থাকেন না। 

উদ্দীপকের রফিক, শফিক ও করিম একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। ব্যবসায়টিতে করিম মূলধন বিনিয়োগ করেননি। আবার ব্যবসায় পরিচালনায়ও অংশ নেন না। কিন্তু ব্যবসায়ে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। যা তিনি ব্যবসায়ে ব্যবহারের অনুমতি দেন। তার সুনাম বা খ্যাতি ব্যবহার করেই ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সমর্থ হয়। এজন্যই তাকে অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম নামমাত্র অংশীদারের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, করিম একজন নামমাত্র অংশীদার। 

 ঘ উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায় আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন করতে হবে বলে এর টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই।

আদালতের নির্দেশে অংশীদারি ব্যবসায় বিলোপসাধন হতে পারে। সাধারণত কোনো অংশীদার পাগল হলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে কিংবা ব্যবসায় পরিচালনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে আদালত ঐ ব্যবসায় বিলোপসাধনের নির্দেশ দেয়।

উদ্দীপকের রফিক, শফিক ও করিম একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। তারা প্রত্যেকেই সক্রিয় অংশীদার ছিলেন। হঠাৎ রফিক মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে কর্তব্য পালনে স্থায়ীভাবে অক্ষম হন।

অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে ঐ ব্যবসায় আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন করতে হয়। রফিকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটায় তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় ও দায় পরিশোধে অসমর্থ। এ অবস্থায় ব্যবসায়টি পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে আদালতের নির্দেশে ব্যবসায়টির বিলোপ ঘটবে। তাই বলা যায়, উক্ত অংশীদারি ব্যবসায়টির টিকে থাকার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

 প্রশ্ন: শফিক, আজিম ও রনি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গৃহনির্মাণ ফার্ম গঠন করার পরিকল্পনা করেন। তারা উক্ত ফার্মে প্রকৌশলী রফিকের সুনাম ব্যবহার করার জন্য তাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি উক্ত ব্যবসায়ে মূলধন, শ্রম বা দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করেন না। কিন্তু মুনাফা ভোগ করেন এবং তিনি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দায় বহন করবেন। তিন বছর পর আজিম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার ১৫ বছর বয়সী সন্তান তামীমকে তারা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দশ লক্ষ টাকা দায় সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও মূলধনসহ মোট দুই লক্ষ টাকা দায় মিটানো সম্ভব। অবশিষ্ট দায় মিটানোর জন্য শফিক ও রনি দুই লক্ষ টাকা করে চার লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং রফিক ও তামীমকে দুই লক্ষ টাকা করে প্রদান করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।

[সি. বো. ১৭]

 ক.         ঘুমন্ত অংশীদার কী?       ১

 খ.          চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয় কেন?     ২

 গ.          উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়ের ধরন ব্যাখ্যা করো।          ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে দায় মেটানোর জন্য রফিক ও তামীমকে প্রদত্ত চিঠির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন সরবরাহ করে এবং লাভ-লোকসান ভোগ করে, কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত বা নি®িক্রয় অংশীদার বলে।

 খ অংশীদারি ব্যবসায়ের পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

অংশীদারি চুক্তি লিখিত, মৌখিক কিংবা লিখিত ও নিবন্ধিত হতে পারে। অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, বিলোপসাধন, বিবাদ, মীমাংসাসহ নানান বিষয় চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। অংশীদারি ব্যবসায়ের সব কিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়।

 গ উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়টি হলো নির্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায়।

নির্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায় নির্দিষ্ট মেয়াদের বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গঠিত হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বা উদ্দেশ্য অর্জনের পর এরূপ ব্যবসায় বিলোপসাধিত হয়।

উদ্দীপকের শফিক, আজিম ও রনি তিন বন্ধু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। উক্ত ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য হলো একটি গৃহনির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা। গৃহনির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে ব্যবসায়টি বন্ধ হয়ে যাবে, যা নির্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যবসায়টি নির্র্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায়।

 ঘ উদ্দীপকের রফিক নামমাত্র এবং তামীম নাবালক অংশীদার হওয়ায়, দায় মেটানোর জন্য তাদেরকে চিঠি পাঠানো যুক্তিসঙ্গত হয়নি।

নামমাত্র অংশীদার নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অংশীদারি ব্যবসায়ে তার সুনাম ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। এ ধরনের অংশীদারের দায় চুক্তি অনুযায়ী সীমিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে যার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি, সে নাবালক অংশীদার। নাবালক অংশীদারের দায়ও সীমিত।

উদ্দীপকের ফার্মে প্রকৌশলী রফিকের সুনাম ব্যবহারের জন্য তাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে তিনি মুনাফা ভোগ করলেও ১০,০০০ টাকার অতিরিক্ত দায় বহন করবেন না। অপরদিকে তামীম ১৫ বছর বয়সে উক্ত ফার্মের অংশীদার হয়। ২ বছর পর তার বয়স বেড়ে ১৭ হয়েছে। তার বয়স যেহেতু ১৮ হয়নি, তাই সে একজন নাবালক অংশীদার। আর আইনত নাবালক অংশীদারের দায় বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত সীমিত।

উদ্দীপকের ব্যবসায়টির দশ লক্ষ টাকা দায় সৃষ্টি হয়। রফিক ও তামীমকে দুই লক্ষ টাকা করে প্রদান করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী রফিক ১০,০০০ টাকার অতিরিক্ত দায় বহনে বাধ্য নন। আর তামীম  নাবালক হওয়ায় তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের বেশি দায় সে বহন করবে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের দায় মেটানোর জন্য রফিক ও তামীমকে চিঠি পাঠানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

 প্রশ্ন: ফারজানা ও তার তিন বোন পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জেকস নামক বুটিক হাউজ গড়ে তোলেন। ভালো ডিজাইন ও সুলভ মূল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্পদিনে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। ৪ বছর পর ফারজানার বড় বোন মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে তৌকিরকে ব্যবসায় দেখাশোনার সুযোগ দেয়। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকা ওয়ান ব্যাংক হতে ঋণ নেয়।             [য. বো. ১৭]

 ক.         নামমাত্র অংশীদার কে? ১

 খ.          অংশীদারি চুক্তিপত্র বলতে কী বোঝায়?   ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।               ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।           ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন, শ্রম ও দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করে না শুধু নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয় তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।

 খ অংশীদারি ব্যবসায়ের পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

অংশীদারি চুক্তি লিখিত, মৌখিক কিংবা লিখিত ও নিবন্ধিত হতে পারে। অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, বিলোপসাধন, বিবাদ, মীমাংসাসহ নানান বিষয় চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। অংশীদারি ব্যবসায়ের সব কিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি বলা হয়।

 গ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।

চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতাসম্পন্ন কমপক্ষে দু’জন ব্যক্তি মুনাফা অর্জন ও তা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের আলোকেই এ ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়। 

উদ্দীপকে ফারজানা ও তার তিন বোন পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জেকস নামক বুটিক হাউজ গড়ে তোলেন। ভালো ডিজাইন ও সুলভমূল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তারা এক ধরনের চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে এ ব্যবসায় গঠন করেন। চুক্তির আলোকেই তারা ব্যবসায় পরিচালনা করেন। যা অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।

 ঘ তৌকির নাবালক হওয়ার কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণ  পরিশোধের ক্ষেত্রে তার দায় সীমিত থাকবে।

কোনো নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা হলে বিনিয়োগকৃত মূলধনের বেশি দায় তাকে বহন করতে হয় না। অর্থাৎ আইনত নাবালকের দায় সবসময় সীমিত। 

উদ্দীপকের ফারজানা ও তার তিন বোন অংশীদারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ৪ বছর পর ফারজানার বড় বোন মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে তৌকিরকে ব্যবসায় দেখাশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে তৌকির নাবালক বা সীমিত অংশীদার।

ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকা ওয়ান ব্যাংক হতে ঋণ নেয়। উক্ত ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরকে এর দায় বহনে বাধ্য করা যাবে না। কারণ, নাবালক অংশীদার ব্যবসায়ের ঋণকৃত অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়। তবে সাবালক হওয়ার পর এরূপ দায় বহনে সে অন্যান্য অংশীদারদের মতোই বাধ্য থাকবে। সুতরাং বলা যায়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বর্তমানে তৌকিরকে দায়ী করা যাবে না।

 প্রশ্ন: মুন এবং রবি ‘সাদ ট্রেডার্স’ নামে একটি অংশীদারি ব্যবসায় চালান। রাফি নামে তাদের বন্ধু প্রায়ই তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আসে। তাকেও ব্যবসায়টির একজন অংশীদার বলে মনে হয়। মাঝে মাঝে সে নিজেকে একজন অংশীদার বলে পরিচয় দেয়। কিছুদিন পরে ‘আশিক ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাদ ট্রেডার্সের কাছে ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। রাফি টাকাটা নিয়েছিল, এটা সত্যি ছিল কিন্তু ‘সাদ ট্রেডার্স’ সে অর্থ দিতে নারাজ।             [ব. বো. ১৭]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি কী?         ১

 খ.          অংশীদারদের অসীম দায় বলতে কী বোঝ?            ২

 গ.          সাদ ট্রেডার্সে রাফি কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।               ৩

 ঘ.          আশিক ট্রেডার্স কি আইনগতভাবে অর্থ ফেরত পাবে? কীভাবে পেতে পারে ব্যাখ্যা করো।    ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি।

 খ অংশীদারি ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে অংশীদারদের অসীম দায় বলে।

ব্যবসায়ের দেনার জন্য মালিকের বিনিয়োগকৃত মূলধন ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ থাকে । বিনিয়োগকৃত মূলধন দ্বারা দায় পরিশোধ করা সম্ভব না হলে মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে দেনা শোধ করতে হয়। কোনো অংশীদার দেউলিয়া হলে তার দায়ও অবশিষ্ট অংশীদারদের বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ে অংশীদারের দায় অসীম।

 গ উদ্দীপকের সাদ ট্রেডার্সে রাফি আচরণে অনুমিত অংশীদার।

আচরণে অনুমিত অংশীদার ব্যবসায়ের প্রকৃত অংশীদার না হয়েও আচার-আচরণ, কথাবার্তা দ্বারা নিজেকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয়। এরা অংশীদারদের না জানিয়ে কোনো ঋণ নিলে তাতে তার ব্যক্তিগত দায় সৃষ্টি হয়। 

উদ্দীপকের মুন এবং রবি সাদ ট্রেডার্স নামে একটি অংশীদারি ব্যবসায় চালান। তাদের বন্ধু রাফি প্রায়ই তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আসে। তাকেও ব্যবসায়টির একজন অংশীদার বলে মনে করা হয়। মাঝে মাঝে সে নিজেকে একজন অংশীদার বলে পরিচয় দেয়। কোনো ব্যক্তি এভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিলে তাকেও একজন অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশিষ্ট্যানুযায়ী এরূপ অংশীদার আচরণে অনুমিত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং সাদ ট্রেডার্সে রাফি একজন আচরণে অনুমিত অংশীদার।

 ঘ উদ্দীপকের আশিক ট্রেডার্স আইনগতভাবে সাদ ট্রেডার্স-এর নিকট থেকে অর্থ ফেরত পাবে না। তবে রাফি আচরণে অনুমিত অংশীদার হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে তাকে অর্থ ফেরত দিতে হবে।

আচরণে অনুমিত অংশীদার সাধারণ অংশীদারদের না জানিয়ে কোনো ঋণ নিলে তাতে অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো দায় সৃষ্টি হয় না। তবে তাকে অংশীদার ভেবে কেউ ব্যবসায়ে ঋণ দিলে সেজন্য সে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবে। 

উদ্দীপকের মুন এবং রবি সাদ ট্রেডার্স নামে একটি অংশীদারি ব্যবসায় চালান। তাদের বন্ধু রাফি প্রায়ই এখানে যাতায়াত করায় তাকেও একজন অংশীদার মনে করা হয়। এছাড়া সে নিজেও মাঝে মাঝে নিজেকে অংশীদার বলে পরিচয় দেয়। কিছুদিন পরে আশিক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান সাদ ট্রেডার্সের কাছে ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। এ অর্থ ব্যক্তিগতভাবে রাফি নিয়েছিল। কিন্তু সাদ ট্রেডার্স এ অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

রাফি  অংশীদারদের মতো আচরণ করলেও সে চুক্তিবদ্ধ কোনো অংশীদার নয় । তাই তাকে অংশীদার মনে করে আশিক ট্রেডার্স ঋণ দেওয়ায় এতে সাদ ট্রেডার্সের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। বরং এখানে রাফি ব্যক্তিগতভাবে  দায়বদ্ধ হবে। তাই আইনগতভাবে আশিক ট্রেডার্স তাদের পাওনা রাফির কাছ থেকে ফেরত পাবে ।

 প্রশ্ন: মীম টুপিতে নকশার কাজে বিশেষভাবে পারদর্শী। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে নকশাকৃত টুপি তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে তার ব্যবসায় দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করে। ফলে মীম তার ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে চায়। কিন্তু তার পর্যাপ্ত মূলধন নেই। তার দুই বন্ধু ব্যবসায়ে মূলধন সরবরাহ করতে চায়। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তারা তিন বন্ধু মিলে ব্যবসায় পরিচালনা করতে রাজি হয়।              [ঢা. বো. ১৬]

 ক.         ব্যবসায় পরিবেশ কী?      ১

 খ.          প্রত্যক্ষ সেবা বলতে কী বোঝায়? ২

 গ.          মালিকানার ভিত্তিতে মীমের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়ের ধরন ব্যাখ্যা করো।  ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায় সংগঠনের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।           ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক একটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।

মখ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ভোক্তা বা গ্রাহকের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণে সক্ষম কোনো কাজ, সুবিধা বা তৃপ্তি সরাসরি প্রদান বা সরবরাহ করাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, নিরীক্ষক প্রভৃতি পেশাজীবীগণ প্রত্যক্ষ সেবাকর্ম বিক্রি করে থাকেন। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রয় পরবর্তী সেবাও প্রদান করে থাকে, যা ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে গণ্য করা হয়।

 গ মালিকানার ভিত্তিতে মীমের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়ের ধরন হলো একমালিকানা ব্যবসায়।

একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক একজন এবং তিনি একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ব্যবসায়ের যাবতীয় সিদ্ধান্ত মালিক একাই নিয়ে থাকে। ব্যবসায়ের লাভ বা লোকসানও তিনি একাই বহন করে।

মীম টুপিতে নকশার কাজে বিশেষ পারদর্শী। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে নকশাকৃত টুপি তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তার ব্যবসায় দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করে। অর্থাৎ মীম তার ব্যবসায়টি একাই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। রপ্তানিকৃত টুপির আয়ও সে একাই ভোগ করে। তার ব্যবসায়টির মূলধন কম হওয়ায় আয়তনও সীমিত। তাই বলা যায়, মীমের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো একমালিকানা।

 ঘ আমি মনে করি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়টি শ্রেষ্ঠ।

এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ও পরিচালনায় গঠিত ব্যবসায় হলো একমালিকানা ব্যবসায়। অন্যদিকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির আলোকে যখন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যবসায় পরিচালনা করে তখন তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। বাড়তি সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করা হয়।

মীম প্রথম পর্যায়ে একমালিকানা ব্যবসায় করে। ব্যবসায়টি দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করায় এটি সম্প্রসারণ করার প্রয়োজন পড়ে। পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব হলে দুই বন্ধুকেও ব্যবসায়ে অন্তর্ভুক্ত করে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তিন বন্ধু ব্যবসায় পরিচালনা করতে রাজি হয়।

মীমের দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো অংশীদারি সংগঠন। প্রথম ব্যবসায়ে মূলধনের পরিমাণ সীমিত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে একাধিক সদস্য হওয়ায় মূলধন বাড়বে। এতে ব্যবসায় সম্প্রসারণ সহজ হবে। এজন্যই আমার মতে দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসাটিই শ্রেষ্ঠ।

 প্রশ্ন: মাহমুদ, তাহসিন ও জহির তিনজন মিলে একটি নিটিং গার্মেন্টস গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মিজানকে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে বিনা মূলধনের প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করে নেওয়া হয়। মাহমুদ, তাহসিন ও মিজান ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু জহির অংশ নেয়নি। বছর শেষে জহির অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করে।           [রা. বো.; চ. বো. ১৬]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায় কী? ১

 খ.          নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় উত্তম কেন? ব্যাখ্যা করো।     ২

 গ.          মিজান কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।     ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে জহিরের মুনাফার দাবি কি যুক্তিযুক্ত? মতামত দাও।       ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক ২ থেকে ২০ জন ব্যক্তি (ব্যাংকিং ব্যবসায় ১০ জন) স্বেচ্ছায় মূলধন সরবরাহ করে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

 খ নিবন্ধকের অফিসে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলে।

অংশীদারি আইনের ৫৮ (১) ধারা অনুযায়ী এ ব্যবসায় নিবন্ধিত হয়। নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অপর অংশীদারের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে। নিবন্ধিত এ ব্যবসায় তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারে। এছাড়াও পাল্টা পাওনা আদায়ে নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় সুবিধা পায়। এজন্যই নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় উত্তম।

 গ মিজান হলো একজন কর্মী অংশীদার।

কর্মী অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে। চুক্তি অনুযায়ী এরা অন্যান্য অংশীদারের মতো ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশ নেয়। এরা নিজেদের শ্রম, মেধা ও দক্ষতাকেই পুঁজি হিসেবে নিয়োগ করে।

মাহমুদ, তাহসিন ও জহির তিনজন মিলে একটি নিটিং গার্মেন্টস গড়ে তুলেছেন। পরবর্তী সময়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মিজানকে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে বিনা মূলধনে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করে নেয়। মিজান ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয়। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান শুধু শ্রম ও দক্ষতাকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করবে তবে অন্যান্য অংশীদারের মতো সে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশ নেবে। মিজানের দক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠানও লাভবান হবে। এতে অন্য অংশীদাররাও লাভবান হবে, যা কর্মী অংশীদারের বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ মিজান একজন কর্মী অংশীদার।

 ঘ জহিরের মুনাফার দাবি যুক্তিযুক্ত। কারণ সে ঘুমন্ত অংশীদার।

ঘুমন্ত অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ এবং লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় না। এরা অন্য অংশীদারদের ওপর আস্থা রেখে তাদের ওপর নির্ভর করে। এ অংশীদারের দায় অসীম হয়।

মাহমুদ, তাহসিন ও জহির তিনজন মিলে নিটিং গার্মেন্টস গড়ে তুলেছে। পরে মিজানও অংশীদার হয়। মাহমুদ তাহসিন ও মিজান ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু জহির অংশ নেয়নি। বছর শেষে জহির অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করে।

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জহির হলো একজন ঘুমন্ত অংশীদার। কারণ সে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় না কিন্তু মূলধন ঠিকই বিনিয়োগ করেছে। ঘুমন্ত অংশীদাররা শর্ত অনুযায়ী অংশীদারের মতো সমান মুনাফা পাবে। তাই বলা যায়, জহির ঘুমন্ত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তার মুনাফা দাবি করা যুক্তিযুক্ত।

 প্রশ্ন: রাশেদ ও শাহেদ চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করেন। রাশেদ ব্যবসায়ে ৫,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু খুলনায় একটি এনজিওতে চাকরিরত থাকার কারণে তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না। শাহেদ একাই ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং তারা ব্যবসায়ের লাভ সমানভাবে ভাগ করে নেন। শাহেদ ঢাকার বাংলাবাজার থেকে নগদের পাশাপাশি বাকিতেও পণ্য ক্রয় করে থাকেন। শাহেদ কিছুদিনের জন্য বিদেশে গেলে রাশেদ দোকানে বসেন। এর মাঝে একজন পাওনাদার ৫০,০০০ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য দোকানে আসেন। কিন্তু রাশেদ পাওনাদারের দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।  [দি. বো. ১৬]

 ক.         চুক্তিপত্র কী?      ১

 খ.          ‘চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি’ ব্যাখ্যা করো। ২

 গ.          রাশেদ কোন ধরনের অংশীদার? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।          ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে রাশেদ কি পাওনাদারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।                ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

 খ অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

অংশীদারি চুক্তি লিখিত এবং মৌখিক কিংবা লিখিত ও নিবন্ধিত হতে পারে। অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, বিলোপসাধন, বিবাদ মীমাংসাসহ নানান বিষয় চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। চুক্তি হতেই অংশীদারি ব্যবসায় জš§লাভ করে এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের সবকিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি বলা হয়।

 গ রাশেদ একজন ঘুমন্ত অংশীদার।

ঘুমন্ত অংশীদার ব্যবসায়ের মূলধন বিনিয়োগ করে, লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকে না। এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায়ের ঝুঁকি বহন করে এবং মুনাফা ভোগ করে, তবে পরিচালনায় অংশ নেয় না।

রাশেদ ও শাহেদ চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করেন। রাশেদ ব্যবসায়ে ৫,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। তিনি চাকরি করায় ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতেন না। অন্য অংশীদার শাহেদ একাই ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তবে ব্যবসায়ের লাভ তারা সমানভাবে ভাগ করে নেন। অতএব, ব্যবসায়টিতে রাশেদ একজন ঘুমন্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করেন।

 ঘ রাশেদ পাওনাদারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন না।

অংশীদারি ব্যবসায়ে নি®িক্রয় বা ঘুমন্ত অংশীদারদের দায়ও সক্রিয় অংশীদারদের মতো অসীম হয়। কোনো ঘুমন্ত বা নি®িক্রয় অংশীদার ব্যবসায়ে তার দায় এড়াতে পারেন না।

রাশেদ ও শাহেদ চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। রাশেদ ব্যবসায়ে ৫,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু চাকরিরত থাকার কারণে তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। শাহেদ কিছু দিনের জন্য বিদেশে গেলে রাশেদ দোকানে বসেন। এর মাঝে একজন পাওনাদার ৫০,০০০ টাকা আদায়ের জন্য আসলে রাশেদ তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অংশীদারি আইন পরিপন্থী।

অংশীদারি আইন অনুযায়ী রাশেদ অন্যান্য সক্রিয় অংশীদারের মতো ঝুঁকি বহন ও লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করবেন। তার দায়ও সক্রিয় অংশীদারদের মতো অসীম হয়। তাই কোনো দাবি বা দায় সৃষ্টি হলে জনাব রাশেদ তা বহন করত বাধ্য থাকবেন। সুতরাং উদ্দীপকে রাশেদের দায় অস্বীকার করা অযৌক্তিক।

 প্রশ্ন: কণা ও তমা ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মুনাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে এ শর্তে যে, মুনা ৬ লক্ষ টাকা দেবে, তবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। ২০১৫ সালে আদালত মুনাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। দুর্ভাগ্যবশত অল্পদিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় কণা মৃত্যুবরণ করে।        [কু. বো. ১৬]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায়ের সংজ্ঞা দাও।            ১

 খ.          আচরণে অনুমিত অংশীদার বলতে কী বোঝায়?  ২

 গ.          মুনা কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।           ৩

 ঘ.          প্রতিষ্ঠানটির পরিণতি সম্বন্ধে তোমার মতামত দাও।            ৪

নং প্রশ্নের উত্তর

 ক ২ থেকে ২০ জন ব্যক্তি (ব্যাংকিং ব্যবসায় ১০ জন) স্বেচ্ছায় মূলধন সরবরাহ করে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

 খ আচরণের মাধ্যমে নিজেকে কোনো ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিলে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।

অংশীদারি আইনের ২৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও যদি মৌখিক কথাবার্তা, লেখা বা অন্য কোনো আচরণের দ্বারা নিজেকে ব্যবসায়ের অংশীদার বলে পরিচয় দেয় তবে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে। এ ধরনের অংশীদারের আচরণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তৃতীয় পক্ষ কোনো প্রকার ঋণ দিলে তার জন্য আচরণে অনুমিত অংশীদার দায়বদ্ধ হয়। এরূপ অংশীদার শুধু পরিচয়দানকারী অংশীদার।

 গ মুনা একজন নি®িক্রয় অংশীদার।

নি®িক্রয় অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে, লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। এরা অন্যদের ওপর আস্থা রেখে ব্যবসায় পরিচালনার ভার তাদের ওপর ছেড়ে দেয়।

কণা ও তমা তাদের অংশীদারি ব্যবসায়ে অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজনে বান্ধবী মুনাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। শর্ত থাকে যে, মুনা ৬ লক্ষ টাকা দেবে, তবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। মুনা ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করবে এবং লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করবে। তবে তার দায় অন্যান্য অংশীদারের মতো অসীম হবে। এভাবে মুনার মধ্যে একজন ঘুমন্ত বা নি®িক্রয় অংশীদারের সব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। সুতরাং তিনি একজন ঘুমন্ত বা নি®িক্রয় অংশীদার।

 ঘ কণা, তমা ও মুনার অংশীদারি ব্যবসায়টির বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে বিলোপসাধন ঘটবে।

অংশীদারদের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের বিলুপ্তিকে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের বিলোপসাধন বলে। ৫টি উপায়ে অংশীদারি ব্যবসায়ে বিলোপ ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে বিলোপসাধন।

কণা ও তমা ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজনে তারা বান্ধবী মুনাকে ৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের শর্তে নি®িক্রয় অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। ২০১৫ সালে আদালত মুনাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। অল্পকিছু দিন পরে সড়ক দুর্ঘটনায় কণার মৃত্যু হয়।

যদি কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হয় বা মারা যায়, তাহলে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়টির অবসান ঘটে। উদ্দীপকের ব্যবসায়টির একজন অংশীদার মুনা আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে এবং আরেকজন অংশীদার কণার মৃত্যু হয়েছে। কাজেই উক্ত ব্যবসায়ের বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে বিলোপসাধন হবে।

 প্রশ্ন:১০ ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে বিরেন, বিজয় ও স্বাধীন সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করলেন। তাদের প্রত্যেকের মূলধন এক লক্ষ টাকা। ২০১১ সালে বিরেনের মৃত্যুর পর তার ১০ বছরের কন্যা মুক্তিকে বিজয় ও স্বাধীনের সম্মতিতে ব্যবসায়ের অংশীদার করা হয়। ২০১২ সালে ৩১শে ডিসেম্বর তারিখে ব্যবসায়ের মুনাফা সামান্যই হলো। ২০১৫ সালের ১লা জুলাই তারিখে বিজয় দেউলিয়া ঘোষিত হলো। তখন ব্যবসায়ের দায়ের পরিমাণ তিন লক্ষ টাকা।                [সি. বো. ১৬]

 ক.         অংশীদারি চুক্তিপত্র কী? ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে কী বোঝায়? ২

 গ.          ২০১১ সালে মুক্তি কোন ধরনের অংশীদার ছিল? ব্যাখ্যা করো।         ৩

 ঘ.          বিজয়ের দেউলিয়াত্বে উক্ত ব্যবসায়ের মুক্তির দায় নিরূপণ করো।  ৪

১০ নং প্রশ্নের উত্তর

 ক অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

 খ সরকার কর্তৃক নিয়োজিত অংশীদারি নিবন্ধনের অফিসে অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র সংরক্ষণ ও নাম তালিকাভুক্ত রাখাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলে।

১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৫৮ ধারায় অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী নিবন্ধনের অফিস থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণের পর নির্ধারিত ফিসহ জমা দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয়। অতঃপর নিবন্ধক পত্র দিয়ে নিবন্ধনের বিষয় জানিয়ে দেন। এটিই অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন।

 গ ২০১১ সালে মুক্তি নাবালক অংশীদার ছিল।

চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতার অভাবে একজন নাবালক ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে না। কিন্তু পিতার মৃত্যুতে বা উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যবসায়ের অন্য সব অংশীদারের সম্মতিক্রমে সে ব্যবসায় হতে মুনাফা ভোগ করতে পারে।

২০১০ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে বিরেন, বিজয় ও স্বাধীন একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তাদের প্রত্যেকের মূলধন ১ লক্ষ টাকা। কিন্তু ২০১১ সালে বিরেনের মৃত্যুর পর তার ১০ বছরের কন্যা মুক্তিকে তাদের সম্মতিক্রমে ব্যবসায়ের অংশীদার করেন। মুক্তির বয়স ১০ বছর হওয়ায় সে একজন নাবালক। সাধারণত একজন নাবালক অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে না। মুক্তি তার পিতার মৃত্যুতে সবার সম্মতিক্রমে ব্যবসায়ের মুনাফা ভোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে নাবালক অংশীদার বলা যায়।

 ঘ বিজয়ের দেউলিয়াত্বে উক্ত ব্যবসায়ের মুক্তির দায় ১ লক্ষ টাকা।

অংশীদারি ব্যবসায়ে নাবালক অংশীদারদের দায় সীমিত। অংশীদারদের দায় যতই হউক, একজন নাবালক অংশীদারের দায় তার মূলধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সে ব্যবসায়ের অসীম দায় বহন করে না।

বিরেন, বিজয় ও স্বাধীন সমঝোতার ভিত্তিতে যে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে এতে প্রত্যেকের মূলধন ১ লক্ষ টাকা। এ অনুযায়ী মুক্তির মূলধন ১ লক্ষ টাকা। বিজয় দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায় ব্যবসায়ের দায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লক্ষ টাকায়। নাবালক অংশীদারের দায় সীমিত হওয়ার কারণে মূলধন অনুযায়ী মুক্তির দায়ের পরিমাণ হবে ১ লক্ষ টাকা।

মুক্তি যদি নাবালক অংশীদার না হতো তাহলে তার দায়ের পরিমাণ হতো ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অংশীদারি ব্যবসায়ে নাবালককে অংশীদার করা হলে তার দায় সীমাবদ্ধ থাকে। তাই বলা যায়, মুক্তির দায়ের পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা।

 প্রশ্ন:১১ সোহাগ, সাত্তার ও সৌমিত্র তিন বন্ধু। সমঝোতার ভিত্তিতে প্রত্যেকে সমান মূলধন বিনিয়োগ করে ঢাকার বাংলাবাজারে একটি আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস চালু করে। ব্যবসায়িক সফলতার কারণে তারা আরেকটি মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু হাতে নগদ টাকা না থাকায় তারা এমন অংশীদার নেওয়ার কথা ভাবছে তার দায় যেমনই হোক না কেন পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে না।           [য. বো. ১৬]

 ক.         নামমাত্র অংশীদার কে? ১

 খ.          চুক্তিকে কেন অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয়?     ২

 গ.          উদ্দীপকে বন্ধুদের অংশীদারি ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।         ৩

 ঘ.          বন্ধুদের নতুন অংশীদার নেওয়ার সিদ্ধান্তে যথার্থতা মূল্যায়ন করো।             ৪

১১ নং প্রশ্নের উত্তর

 ক যে অংশীদার মূলধন, শ্রম ও দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করে না শুধু নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয় ও মুনাফা ভোগ করে তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।

 খ অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

অংশীদারি চুক্তি লিখিত এবং মৌখিক কিংবা লিখিত ও নিবন্ধিত হতে পারে। অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, বিলোপসাধন, বিবাদ মীমাংসাসহ নানান বিষয় চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। চুক্তি হতেই অংশীদারি ব্যবসায় জš§লাভ করে এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের সব কিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি বলা হয়।

 গ তিন বন্ধুর অংশীদারি ব্যবসায়টি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।

যে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণের দায়-দায়িত্ব সীমাহীন এবং ব্যবসায় পরিচালনায় প্রত্যেকেই অংশগ্রহণের অধিকারী হয়, তাকে সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এরূপ অংশীদারি ব্যবসায়ে সদস্যের দায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি দ্বারা দায়বদ্ধ হয়।

তিন বন্ধু সোহাগ, সাত্তার এবং সৌমিত্র অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করে। তারা সমঝোতার ভিত্তিতে প্রত্যেকে সমান মূলধন বিনিয়োগ করে ঢাকার বাংলাবাজারে একটি আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস চালু করে। ব্যবসায়টিতে তিন বন্ধুর দায় সীমাবদ্ধ নয়। অর্থাৎ ব্যবসায়ের দেনার জন্য তিন বন্ধুই ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। মুনাফা হলেও তিনজন সমান ভাগ পাবে। সুতরাং বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়টি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।

 ঘ বন্ধুদের অংশীদারি ব্যবসায়ে নতুন অংশীদার নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক।

অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রত্যেক সদস্যই একজন অংশীদার। মূলধন, মেধা, সময় এবং সুনাম বিনিয়োগ করে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হওয়া যায়।

তিন বন্ধু একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। তাদের প্রিন্টিং ব্যবসায়টি ভালোই চলছিল। কিন্তু নতুন একটি মেশিন ক্রয়ের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে তারা মূলধন বিনিয়োগের শর্তে অংশীদার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল। নতুন অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। কেবল মূলধন বিনিয়োগ করবে এবং মুনাফার ভাগ পাবে।

ঘুমন্ত অংশীদার গ্রহণের মাধ্যমে তিন বন্ধু ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। ঘুমন্ত অংশীদার গ্রহণ করায় তাদের ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। নতুন অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো হস্তক্ষেপও করতে পারবে না। এতে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুতরাং মূলধনের সংস্থান করতে অংশীদার গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

 প্রশ্ন:১২ মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধু সাজ্জাদ সমঝোতার ভিত্তিতে পাটের তৈরি হস্তশিল্পের পণ্যসামগ্রী কিনে এনে বাণিজ্য মেলায় স্টল দেন। বাণিজ্য মেলায় তাদের পণ্যগুলো ভোক্তাদের কাছে সমাদৃত হওয়ায় মুনাফা ভালো হয়। ক্রেতাসাধারণ মেলা শেষে তাদের ব্যবসায়ের স্থায়ী ঠিকানার সন্ধান চান। এ কারণে তারা স্থায়ীভাবে ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য মূলধনের তেমন সমস্যা না থাকলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভাবছেন। [ব. বো. ১৬]

 ক.         খুচরা ব্যবসায় কী?            ১

 খ.          অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায়ের অবদান ব্যাখ্যা করো।       ২

 গ.          মি. রাজ্জাকের ব্যবসায়টি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায়? ব্যাখ্যা করো।               ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের উল্লিখিত ব্যবসায়টি স্থায়ীভাবে চালিয়ে যাবার জন্য সর্বপ্রথম করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।                ৪

১২ নং প্রশ্নের উত্তর

 ক পাইকারদের নিকট থেকে পণ্য ক্রয় করে খুচরা মূল্যে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট বিক্রির সাথে জড়িত ব্যবসায় হলো খুচরা ব্যবসায়।

 খ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো ব্যবসায়।

ব্যবসায় পণ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বণ্টনের মাধ্যমে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য ঠিক রাখে। ব্যবসায় দেশের সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করে। ব্যবসায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষদ্র সঞ্চয় বৃহৎ পুঁজিতে রূপ নেয়। ব্যবসায় পরিবহন, ব্যাংকিং এবং শিল্প বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। সুতরাং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায়ের অবদান অনস্বীকার্য।

 গ মি. রাজ্জাকের ব্যবসায়টি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি ব্যবসায়।

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে অংশীদারি ব্যবসায় গড়ে তোলেন। সময় বা মেয়াদ শেষ হলেই এরূপ ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটে।

মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধু সাজ্জাদ পাটের তৈরি হস্তশিল্পের পণ্যসামগ্রী কিনে এনে বাণিজ্য মেলায় স্টল দেন। বাণিজ্য মেলা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়। মেলার মেয়াদ শেষ হলেই রাজ্জাকদের স্টল বা ব্যবসায়ও শেষ হয়ে যাবে। মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধু সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থাৎ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। ব্যবসায়টি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি ব্যবসায় হিসেবে গণ্য হবে।

 ঘ মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধুর ব্যবসায়টি স্থায়ীভাবে চালিয়ে যাবার জন্য সর্বপ্রথম চুক্তিপত্র সম্পাদন করা উচিত।

অংশীদারদের মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয় তার লিখিত রূপই হলো অংশীদারি চুক্তিপত্র। এটি স্থায়ী সময়ের জন্য সব সমস্যার সমাধান প্রদান করে।

মি. রাজ্জাক তার বন্ধুকে নিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করেন। বাণিজ্য মেলায় তাদের পণ্যগুলো ভোক্তাদের কাছে সমাদৃত হওয়ায় মুনাফাও ভালো হয়। ক্রেতাসাধারণের চাহিদা বিবেচনা করে মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধু স্থায়ীভাবে ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করতে চান। এক্ষেত্রে তাদেরকে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।

মি. রাজ্জাক ও তার বন্ধু মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়টি শুরু করেছিলেন। এখন তারা স্থায়ীভাবে ব্যবসায়টি চালিয়ে যেতে চান। এ ধরনের পরিস্থিতিতে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করা উচিত। লিখিত চুক্তিপত্রে তারা ব্যবসায়টির গঠন, পরিচালনা এবং সম্প্রসারণসহ যাবতীয় বিষয় উল্লেখ করবেন। সুতরাং সর্বপ্রথমে এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করেই দুই বন্ধু তাদের ব্যবসায়টি স্থায়ীভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন।

 প্রশ্ন:১৩ জনাব ইফতি ও তার ৬ বন্ধু মিলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ছয় মাস পর তাদের একজন অংশীদার জনাব মুহিত অবসর গ্রহণ করেন। তবে তার বিনিয়োগকৃত মূলধন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে রেখে দেন। ক্রমাগত ব্যবসায়ের লোকসান হওয়ায় জনাব মুহিত তার অর্থ আদায় নিয়ে বেশ চিন্তিত। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা]

 ক.         চুক্তিপত্র কী?      ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলতে কী বুঝায়?        ২

 গ.          জনাব মুহিত কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।          ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে জনাব মুহিত কি আদালতে শরণাপন্ন হয়ে তার অর্থ ফেরত পাবেন? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।     ৪

১৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যে পত্রের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করেন তাকে চুক্তিপত্র বলে। অ

খ অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের অবসানকে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলে। অ

বিলোপসাধনের ফলে অংশীদারি ব্যবসায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে, বাধ্যতামূলক, বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে, বিজ্ঞপ্তি দ্বারা এবং আদালতের নির্দেশে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপ সাধন হতে পারে।

গ জনাব মুহিত আপাত দৃষ্টিতে অংশীদার। অ

এ অংশীদার অবসর গ্রহণের পর মূলধন উত্তোলন করে না। ব্যবসায়ের ঋণ হিসেবে তা রেখে দেয়। তার বিনিময়ে সে সুদ নিয়ে থাকে। এ অংশীদার বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে অবসর নিলে ব্যবসায়ের দায় দেনা তাকেও বহন করতে হয়। বাস্তবে এরা অংশীদার নয় বরং ব্যবসায়ের পাওনাদার বা ঋণাদাতা।

উদ্দীপকের জনাব ইফতি ও তার বন্ধু মিলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ছয় মাস পর তাদের একজন অংশীদার জনাব মুহিত অবসর নেন। তিনি তার বিনিয়োগকৃত মূলধন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে রেখে দেন। তার এই মূলধন তিনি প্রতিষ্ঠানে ঋণ হিসেবে রেখে দেন। তার এই কর্মকাণ্ড আপাতদৃষ্টিতে অংশীদারকেই ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, জনাব মুহিত একজন আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার।

ঘ উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতিতে জনাব মুহিত আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তার অর্থ ফেরত পাবেন। অ

আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার অবসর গ্রহণের পর তার মূলধন ঋণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে রেখে দেন। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে সুদ নিয়ে থাকেন। তারা মূলত ঋণদান হিসেবে গণ্য হন। তবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিলোপসাধন না করলে তাকে ব্যবসায়ের দায়ের ভার নিতে হয়।

উদ্দীপকের জনাব ইফতি ও তার ছয় বন্ধু মিলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ছয় মাস পর তাদের একজন অংশীদার জনাব মুহিত অবসর নেন। তিনি তার মূলধন উত্তোলন না করে ঋণ হিসেবে রেখে যান। ক্রমাগত ব্যবসায়ের লোকসান হচ্ছে। এতে করে জনাব মুহিত তার অর্থ আদায় নিয়ে বেশ চিন্তিত।

অংশীদারি ব্যবসায়ের ঋণদাতা বা পাওনাদারগণ তাদের পাওনা আদায় করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা আইনের আওতায় যেতে পারে। জনাব মুহিত অবসর নেয়ার পর মূলধন প্রতিষ্ঠানে রেখে যান। যা ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এক্ষেত্রে জনাব মুহিত ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন পাওনাদার। তার রেখে আসা মূলধন বা ঋণের টাকা তিনি আদায় করতে পারবেন। তিনি প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। এতে ঐ প্রতিষ্ঠান তার টাকা পরিশোধে বাধ্য থাকবে। সুতরাং বলা যায়, জনাব মুহিত আদালতে শরণাপন্ন হলে তার অর্থ ফেরত পাবেন।

 প্রশ্ন:১৪ জনাব করিম ও তার দুই বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে ও মুনাফা ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে ‘সমতা প্রিন্টিং প্রেস’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সর্বসম্মতিক্রমে মি. করিম ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন এবং বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। কিন্তু কোন মূলধন সরবরাহ করেন না। কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করায় সফলতার সাথে চলতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করিম অসুস্থ হয়ে পড়লে সে আর ব্যবসায় চালিয়ে যেতে পারবে না বলে জানান।       [আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা]

 ক.         অংশীদারি চুক্তিপত্র কী? ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে কী বোঝায়?                ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব করিম কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।         ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে বর্ণিত ‘সমতা প্রিন্টিং’ প্রেসের পরিণতি কী হতে পারে? মতামত দাও।   ৪

১৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক অংশীদারদের পারস্পরিক সমঝোতা বা চুক্তির লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে। অ

খ অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধনের কার্যালয়ে অংশীদারি ব্যবসায়ের নাম তালিকাভুক্তিকরণ ও চুক্তিপত্র সংরক্ষণকে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলা হয়। অ

অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন বলতে মূলত এর চুক্তিপত্রের নিবন্ধনকে বোঝায়।

অংশীদার আইন-১৯৩২ অনুযায়ী, অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধনের ফলে অংশীদারি চুক্তিপত্রটি একটি আইনসম্মত দলিলে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে অংশীদারি ব্যবসায় ও অংশীদারগণ বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে থাকে।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব করিম একজন কর্মী অংশীদার। অ

এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ না করে চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে ব্যবহার করে। এরূপ অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতা দ্বারা ব্যবসায়ে সক্রিয় থাকে। এরা অন্য অংশীদারদের মতো লাভ-লোকসানে অংশগ্রহণ করে। এরা নিজেদের শ্রম, মেধা ও দক্ষতাকেই পুঁজি হিসেবে নিয়োগ করে থাকে।

উদ্দীপকের জনাব করিম ও তার দুই বন্ধু অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। চুক্তি অনুযায়ী জনাব করিম ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। তিনি কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেননি। এক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি মূলধন হিসেবে নিজের শ্রমকেই বিনিয়োগ করেছেন। তিনি অর্থ বিনিয়োগ না করে সরাসরি শ্রম দিচ্ছেন। অর্থাৎ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করছেন। এসব বৈশিষ্ট্য কর্মী অংশীদারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, জনাব করিম একজন কর্মী অংশীদার।

ঘ উদ্দীপকের ‘সমতা প্রিন্টিং প্রেস’ নামক অংশীদারি ব্যবসায়টির বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে বিলোপসাধন ঘটবে।

অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, অংশীদারি ব্যবসায়ের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ বা উদ্দেশ্য অর্জিত হলে, কোনো অংশীদার মারা গেলে বা পাগল হলে বা অক্ষম হলে উক্ত ব্যবসায়টি বিলুপ্ত হতে পারে। একে বিশেষ ঘটনা সাপেক্ষে বিলোপসধান বলা হবে।

উদ্দীপকের জনাব করিম ও তার দুই বন্ধু মিলে অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করে। এতে জনাব করিম একজন কর্মী অংশীদার। তাদের ব্যবসায়টি ভালোভাবেই চলছিল। হঠাৎ জনাব করিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তিনি আর ব্যবসায় চালিয়ে যেতে পারবেন না বলে জানান।

তিনিই একমাত্র সক্রিয় অংশীদার ছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যবসায়ে থাকতে পারবেন না, এটি জানানোর ফলে ব্যবসায়টির বিলোপ ঘটবে। আর যেহেতু একজন অংশীদারের অক্ষমতাজনিত বিষয়, সেহেতু এটি বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন হবে।

 প্রশ্ন:১৫ এনামুল, আতিক ও অনিক তিনজন একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার। তাদের ব্যবসায়ের একজন দেনাদার দীর্ঘদিন ধরে ২০,০০০ টাকা দেনা পরিশোধ করছে না। এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি, অবশেষে তারা আদালতের শরণাপন্ন হলেও আদালত তাদের পক্ষে কোন রায় নিতে পারেনি। এ সমস্যার কারণে তারা ভাবছে এমন কিছু করবে যাতে প্রতিষ্ঠানের পৃথক আইনগত সত্তার সৃষ্টি হয়। কাজেই তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলো।                [নটর ডেম কলেজ, ঢাকা]

 ক.         প্রতিবন্ধ অংশীদার কাকে বলে?   ১

 খ.          নাবালক অংশীদারের অধিকার বলতে কী বোঝ? ২

 গ.          উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়টি আইনগত সুবিধা না পাওয়ার কারণ কী বলে তুমি মনে কর? তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।       ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে উল্লেখ সমস্যা সমাধানে আইনগত সত্তা সম্বলিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই কী একমাত্র সমাধান? তোমার মতামত প্রতিষ্ঠিত করো।                ৪

১৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যদি কাউকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় এবং তিনিও মৌনতা অবলম্বন করেন তাহলে তাকে প্রতিবন্ধ অংশীদার বলে।

খ সাধারণ অংশীদারদের মতো ব্যবসায়ের দায়-দায়িত্ব ও সুবিধা ভোগ করার অধিকারই হলো নাবলক অংশীদারের অধিকার। অ

এক্ষেত্রে নাবালক প্রতিষ্ঠানে সীমিত অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে। সে অন্যদের মতো প্রতিষ্ঠানের দায়-দায়িত্ব নিতে পারবে। চুক্তি অনুযায়ী সে মুনাফা ভোগ করতে পারে। তবে দায়ের ক্ষেত্রে মূলধন পর্যন্ত দায় বহনে বাধ্য থাকে। অন্যদের মতো অসীম দায় বহন করে না।

গ অংশীদারি ব্যবসায়টি চুক্তিপত্র নিবন্ধন না করায় আইনগত সুবিধা পায় নি। অ

অংশীদারদের মধ্যকার সম্পর্ক, দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি চুক্তিতে উল্লেখ থাকে। চুক্তি মৌখিক অথবা লিখিত হতে পারে। আবার নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিতও হতে পারে। লিখিত চুক্তিকে চুক্তিপত্র বলে। চুক্তিপত্র নিবন্ধন বলতে আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত করাকে বোঝায়। এতে আইনগত সুবিধা ভোগ করা যায়। প্রতিষ্ঠান চাইলে অন্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। ফলে অধিকার আদায় করা সহজ হয়।

উদ্দীপকে এনামুল, আতিক ও অনিক তিনজন একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তাদের ব্যবসায়ের একজন দেনাদার দীর্ঘদিন ধরে ২০,০০০ টাকা দেনা পরিশোধ করছে না। তাই তারা আদালতের আশ্রয় নেয়। কিন্তু আদালত তাদের পক্ষে কোন রায় দেয় না। অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন না করলে কোন আইনগত সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়টি নিবন্ধন না করায় আইনগত সুবিধা পায়নি।

ঘ অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়ের সমস্যা সমাধানে আইনগত সত্তা সম্বলিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই একমাত্র সমাধান।

নির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে নিবন্ধিত বা আইনের তালিকাভুক্ত করলেই আইনগত সুবিধা পাওয়া যায়। অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র নিবন্ধন করলে আইনগত সত্তার সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠান যে কোনো সমস্যায় আইনের আওতায় যেতে পারে। ফলে আইনগত সুবিধা ভোগ করতে পারে।

উদ্দীপকের এনামুল, আতিক ও অনিক তিনজন একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তাদের দেনাদার দীর্ঘদিন দেনা পরিশোধ করছে না। এতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু কোন লাভ হয় না। অবশেষে তারা আদালতের আওতায় যায়। আদালতও তাদের পক্ষে কোন রায় দেয় না। তাই তারা প্রতিষ্ঠানের পৃথক আইনগত সত্তা সৃষ্টি করতে চায়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের মাধ্যমে চুক্তিপত্র নিবন্ধন করা যায়। এতে প্রতিষ্ঠান আইনের আওতায় নিবন্ধিত হয়। ফলে আইনগত বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকের অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি আইনে নিবন্ধন করতে পারে। এতে অংশীদারগণ দোনাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তারা তাদের দেনা আদায় করতে পারবে। অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন না করলে এই সুবধিা পেতে পারে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে আইনগত সত্তা সম্বলিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই একমাত্র সমাধান।

 প্রশ্ন:১৬ আলম, শান্ত, তিষা ও বিমল চারবন্ধু মিলে একটি ওষুধের দোকান দিল। প্রত্যেকের সমান পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার কথা থাকলেও বিমল এর আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য সে ব্যবসায়ে অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু বিমল শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ হওয়ার কারণে তার অন্যান্য বন্ধু তাকে সমান পরিমাণ মুনাফা ও সম্মান দিতে রাজি হয়। সকলের সম্মতিতে শান্ত এর ১৬ বছরের ছেলে রাফি ব্যবসায়ে যোগদান করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শান্ত মৃত্যুবরণ করায় ব্যবসায়ের বিলোপ সাধন ঘটে।          [ঢাকা কলেজ]

 ক.         আপাত দৃষ্টিতে অংশীদার কাকে বলে?     ১

 খ.          একমালিকানা ব্যবসায়ের দায় অসীম কেন?           ২

 গ.          উদ্দীপকে বিমল কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।   ৩

 ঘ.          ‘ব্যবসায়ের পাওনাদারদের দায় মেটানোর জন্য বিদ্যমান সকল অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হবে। তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।   ৪

১৬ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে অংশীদার ব্যবসায় হতে অবসর গ্রহণের পর মূলধন উত্তোলন না করে তা ব্যবসায়ে রেখে দেয় এবং এর বিনিময়ে সুদ গ্রহণ করে, সেই অংশীদারকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলা হয়। অ

খ একমালিকানা ব্যবসায়ের অসীম দায় বলতে মালিককে তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও দায়-দায়িত্ব বহন করাকে বোঝায়। অ

এ ব্যবসায়ের দায়ের জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষেত্রবিশেষে দায়বদ্ধ হয়। সরবরাহকৃত মূলধন দ্বারা দায় পরিশোধ না হলে মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করে দেনা শোধ করতে হয়। তাই একমালিকানা ব্যবসায়ের দায় অসীম হয়।

গ উদ্দীপকে বিমল একজন কর্মী অংশীদার। অ

এরূপ অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না। শুধু চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে ব্যবহার করে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। এ অংশীদার অন্য অংশীদারদের মতো সমপরিমাণ মুনাফা পায়। এদের দায়ও অসীম।

উদ্দীপকে আলম, শান্ত, তিষা ও বিমল চার বন্ধু মিলে একটি ওষুধের দোকান দেয়। প্রত্যেকের সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করার কথা ছিল। বিমল আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে অর্থ বিনিয়োগে ব্যর্থ হয়। কিন্তু বিমল শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ। তাই তার বন্ধুরা তাকে সমান পরিমাণ মুনাফা ও সম্মান দিতে রাজি হয়। এসব বৈশিষ্ট্য কর্মী অংশীদারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই, বিমলকে কর্মী অংশীদার বলা যায়।

ঘ ব্যবসায়ের পাওনাদারদের দায় মেটানোর জন্য বিদ্যমান সকল অংশীদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হবে উক্তিটি অংশীদারের অসীম দায়ের আলোকে যৌক্তিক। অ

অংশীদারি ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হয়। দেনা পরিশোধের জন্য ব্যবসায়িক সম্পদ যথেষ্ট না হলে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে দেনা শোধ করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের দায় অসীম হয়।

উদ্দীপকে চার বন্ধু মিলে ব্যবসায় শুরু করে। তাদের ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়। সব অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী সমান মুনাফা পায়। তাদের দায়ের পরিমাণও অসীম। এক বন্ধু মারা গেলে ব্যবসায়টির বিলোপ সাধন ঘটে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের সব অংশীদারদের দায় অসীম। ব্যবসায়ের দেনা সৃষ্টি হলে অংশীদারদের প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকেও দেনা পরিশোধ করতে হয়। আবার কোনো অংশীদার মারা গেলে, দেউলিয়া হলে তার দায় অন্য অংশীদারদের ওপর বর্তায়। সুতরাং ব্যবসায়ের পাওনাদারদের দায় মেটানোর জন্য বিদ্যমান সব অংশীদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হবে কথাটি যুক্তিযুক্ত।

 প্রশ্ন:১৭ সিমু, ইসু ও রিমু তিন বন্ধু মিলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সমান মূলধন বিনিয়োগ প্রদান শর্তে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তারা সমান পরিশ্রম দিয়ে ও সৎভাবে ব্যবসায়টি পরিচালনা করে। এর ফলে দিন দিন তাদের ব্যবসায়ের মুনাফা বাড়তে থাকে। তাদের ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি নতুন মেশিন স্থাপনের প্রয়োজন কিন্তু মেশিন ক্রয়ের জন্য তাদের যথেষ্ট মূলধন নেই। মূলধন বৃদ্ধির জন্য তারা এমন একজন অংশীদার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো যে পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না কিন্তু দায় বহন করবে। [ঢাকা কলেজ]

 ক.         সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় কাকে বলে? ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।          ২

 গ.          উদ্দীপকের তিন বন্ধুর অংশীদারি ব্যবসায়ের ধরন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।    ৩

 ঘ.          ব্যবসায়ে নতুন অংশীদার গ্রহণের সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত? মূল্যায়ন করো।             ৪

১৭ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে অংশীদার ব্যবসায়ে কমপক্ষে একজন সদস্যের দায় সীমিত এবং কমপক্ষে একজনের দায় অসীম তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদরি ব্যবসায় বলে।

খ নিবন্ধকের অফিসে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলে।

অংশীদারি আইনের ৫৮(১) ধারা অনুযায়ী এ ব্যবসায় নিবন্ধিত হয়। এ ব্যবসায় অপর অংশীদারদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে। নিবন্ধিত ব্যবসায় তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারে। এছাড়া পাল্টা পাওনা আদায়ে নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় সুবিধা পায়। তাই অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধিত হওয়া প্রয়োজন।

গ তিন বন্ধুর অংশীদারি ব্যবসায়টি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়। অ

 যে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণের দায়-দায়িত্ব সীমাহীন এবং ব্যবসায় পরিচালনায় প্রত্যেকেই অংশগ্রহণের অধিকারী হয়, তাকে সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এরূপ অংশীদারি ব্যবসায়ে সদস্যের দায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি দ্বারা দায়বদ্ধ হয়।

তিন বন্ধু সিমু, ইসু ও রিমু অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করে। তারা সমঝোতার ভিত্তিতে প্রত্যেকে সমান মূলধন বিনিয়োগ করে ঢাকার ফরিকরাপুলে একটি আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস চালু করে। ব্যবসায়টিতে তিন বন্ধুর দায় অসীম। অর্থাৎ ব্যবসায়ের দেনার জন্য তিন বন্ধুই ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। মুনাফা হলেও তিনজন সমান ভাগ পাবে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যবসায়টি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ বন্ধুদের অংশীদারি ব্যবসায়ে নতুন অংশীদার নেয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক। অ

অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রত্যেক সদস্যই একেকজন অংশীদার। মূলধন, মেধা, সময় এবং সুনাম বিনিয়োগ করে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হওয়া যায়।

সিমু, ইসু ও রিমু তিন বন্ধু একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। তাদের প্রিন্টিং ব্যবসায়টি ভালোই চলছিল। কিন্তু নতুন একটি মেশিন ক্রয়ের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে তারা মূলধন বিনিয়োগের শর্তে অংশীদার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল। নতুন অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। কেবল মূলধন বিনিয়োগ করবে এবং মুনাফার ভাগ পাবে।

ঘুমন্ত অংশীদার গ্রহণের মাধ্যমে তিন বন্ধু ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। ঘুমন্ত অংশীদার গ্রহণ করায় তাদের ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো সমস্য হবে না। নতুন অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো হস্তক্ষেপও করতে পারবে না। এতে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুতরাং মূলধনের সংস্থান করতে অংশীদার গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

 প্রশ্ন:১৮ রোহান ২০১০ সালে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ঢাকার অদূরে একটি বুটিক কারখানা স্থাপন করে। ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সে মূলধন স্বল্পতার কারণে ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করতে পারছিল না। ২০১২ সালে ২০% লভ্যাংশ প্রদানের শর্তে এক প্রবাসী বন্ধুর থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সে ঢাকার নিউমার্কেটে একটি শাখা স্থাপন করে। ২০১৩ সালে তার মুনাফা পূর্বের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়।

                [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা]

 ক.         সীমিত অংশীদার কাকে বলে?     ১

 খ.          নাবালক কেন অংশীদার হতে পারে না-ব্যাখ্যা করো।          ২

 গ.          উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়টি বর্তমানে কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।           ৩

 ঘ.          তুমি কি মনে করো সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন-ই রোহানের মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ? যুক্তি দেখাও।        ৪

১৮ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে অংশীদারের দায় চুক্তি অনুযায়ী বা আইনগত কারণে মূলধন দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে তাকে সীমিত অংশীদার বলে।

খ আইন অনুযায়ী নাবালক অংশীদার হতে পারে না।

অংশীদারি আইনে ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নাবালক আইন অনুযায়ী অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সকল অংশীদার সম্মত হলে সাবালকত্ব প্রাপ্তি পর্যন্ত নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নাবালক বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত দায় বহন করবে।

গ উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়টি বর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন। অ

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে এ ব্যবসায় স্থাপন করে। চুক্তি লিখিত বা মৌখিক হতে পারে। এক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী তারা লাভ লোকসান ভোগ করে। মূলধনের ক্ষেত্রেও তারা চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগ করে থাকে।

উদ্দীপকে রোহান ২০১০ সালে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ঢাকার অদূরে একটি বুটিক কারখানা স্থাপন করে। সে মূলধন স্বল্পতার কারণে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারছিল না। ২০১২ সালে ২০% লভ্যাংশ প্রদানের শর্তে এক প্রবাসী বন্ধুর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে সে নিউমার্কেটে একটি শাখা স্থাপন করেন। রোহান তার বন্ধুকে মুনাফা প্রদানের শর্তে ব্যবসায়ে যোগদান করেছে। রোহান চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার ২০% তার বন্ধুকে দিবে। যা অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং রোহানের সংগঠনটি বর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ হ্যাঁ, সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনই রোহানের মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ। অ

অংশীদারি ব্যবসায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা অংশীদার নিয়ে গঠিত হয। ব্যক্তিদ্বয় চুক্তি অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ করে থাকে। একের অধিক ব্যক্তি হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানে অধিক মূলধনের যোগান দেয়া যায়। ফলে ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও কার্যক্রম পরিচালনায় সহজ হয়।

উদ্দীপকের রোহান ২০১০ সালে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ঢাকার অদূরে একটি বুটিক কারখানা স্থাপন করেন। তার ব্যবসায়ের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মূলধনের অভাব রয়েছে। ফলে সে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারছে না। তাই সে ২০১২ সালে ২০% মুনাফা প্রদানের ভিত্তিতে তার প্রবাসী বন্ধুর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শাখা স্থাপন করে। এতে সে পূর্বের চেয়ে প্রায় অধিক মুনাফা অর্জন করে।

রোহানের প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে একাই প্রতিষ্ঠা করায় এটি একমালিকানা ব্যবসায় ছিল। যেখানে সে একাই মূলধন সরবরাহ করত, তাই প্রয়োজনে সে মূলধন সংগ্রহ করতে পারত না। ফলে তার ব্যবসায়ে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় বাড়াতে পারেনি। তাই তিনি তার ব্যবসায়ে তার বন্ধুকে চুক্তির ভিত্তিতে যুক্ত করে। সে তার বন্ধুর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নেয়। বিনিময়ে সে মুনাফার ২০% দিবে বলে প্রতিশ্র“তি দেয়। ব্যবসায়ে তার বন্ধু যোগদান করায় ব্যবসায়ের কাঠামো পরিবর্তন হয়। ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়ে পরিবর্তন হয়। এতে অংশীদার থেকে সে মূলধন সরবরাহ করতে পারছে। ফলে ব্যবসায় সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। যা তার বন্ধুকে যোগ না করলে সম্ভব হতো না। তাই বলা যায়, রোহান তার বন্ধুকে ব্যবসায় যুক্ত করে কাঠামো পরিবর্তন করায় তার মুনাফা বাড়ে।

 প্রশ্ন:১৯ স্বপন তার বড়লোক বন্ধুর আর্থিক সহযোগিতায় আসবাবপত্রের দোকান দিয়ে ব্যবসায় করে আসছে। দু’জন মিস্ত্রি কাজ করে। কিছু বানিয়ে দোকানে রাখে ও বিক্রয় করে। আবার ফরমায়েশ অনুযায়ীও আসবাবপত্র বানিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করায় শহরের ব্যবসায়ীরাও আসবাবপত্রের ফরমায়েশ দিচ্ছে। তাই ব্যবসায় বাড়াতে আরো অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এবার বন্ধুর সাথে সমঝোতা করে একসাথে ব্যবসায়ের সিদ্ধান্ত নিল। বন্ধুও এতে রাজি। এখন বন্ধুও দোকানে বসে পরামর্শ দেয়। এতে তাদের ব্যবসায় ভালোই চলছে।    

[নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ]

 ক.         প্রত্যক্ষ সেবা কী?              ১

 খ.          ব্যবসায় বণ্টনকারী শাখা বলতে কী বোঝায়?          ২

 গ.          স্বপন প্রথমে যে ব্যবসায় করতো মালিকানার ভিত্তিতে কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।                ৩

 ঘ.          স্বপনের পরবর্তীতে গৃহীত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।   ৪

১৯ নং প্রশ্নের উত্তর

ক গ্রাহকদের সরাসরি সেবা দেয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। যেমন: ডাক্তারি, ওকালতি প্রভৃতি এর অন্তর্গত।

খ ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা হলো বাণিজ্য।

শিল্পে উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার কাছে বাণিজ্যের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়। বাণিজ্য পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং ও বিমা এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বণ্টন কাজ নিশ্চিত করে। অর্থাৎ বাণিজ্য শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বণ্টনের সাথেই সংশ্লিষ্ট। এজন্যই বাণিজ্যকে পণ্যের বণ্টনকারী শাখা বলা হয়।

গ উদ্দীপকে স্বপন প্রথমে যে ব্যবসায় করতো মালিকানার ভিত্তিতে তা একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

এ ব্যবসায় একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ব্যবসায়ের মালিক একজন থাকায় ইচ্ছা করলেই সীমিত মূলধন নিয়ে সহজেই এ ব্যবসায় গঠন করা যায়। এ ব্যবসায়ে যাবতীয় লাভ মালিক একাই ভোগ করেন এবং ব্যবসায়ের সমস্ত দায়-দেনা একাই বহন করেন।

উদ্দীপকে স্বপন তার বড়লোক বন্ধুর আর্থিক সহযোগিতায় আসবাবপত্রের দোকান নিয়ে একটি ব্যবসায় পরিচালনা করছে। তার দোকানে দুজন মিস্ত্রি কাজ করছে। দোকানে কিছু আসবাবপত্র বানিয়ে রাখে এবং তা গ্রাহকদের নিকট বিক্রয় করে। এছাড়াও সে গ্রাহকদের ফরমায়েশ অনুযায়ী আসবাবপত্র বানিয়ে সরবরাহ করে। এসব বৈশিষ্ট্য একমালিকানা ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, স্বপনের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

ঘ উদ্দীপকে স্বপন পরবর্তী সময়ে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা অত্যন্ত যৌক্তিক।

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। এ ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। চুক্তির শর্তানুযায়ী অংশীদারদের মধ্যে লাভ-লোকসান বণ্টন করা হয়।

উদ্দীপকের স্বপন প্রথম পর্যায়ে সুনামের সাথে একমালিকানা ভিত্তিতে আসবাবপত্রের দোকান পরিচালনা করছে। তার দোকানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফরমায়েশ আসছে। তাই তিনি তার ব্যবসায় বাড়াতে চান। এজন্য অর্থের প্রয়োজন হলে বন্ধুর সাথে সমঝোতা করে নতুন একটি ব্যবসায় গঠন করে। এখন তার বন্ধুও দোকানে বসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়। এতে তাদের ব্যবসায় ভালোই চলছে।

অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয় চুক্তির মাধ্যমে। যখন একমালিকানা ব্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান করা সম্ভব হয় না তখন প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় করার জন্য অনেকেই একমালিকানা ব্যবসায়কে অংশীদারি ব্যবসায়ে রূপান্তর করে। উদ্দীপকের স্বপনও যখন অর্থের অভাবে ফরমায়েশ অনুযায়ী আসবাবপত্র সরবরাহ করতে পারছিল না তখন সে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করার জন্য তার বন্ধুকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসায়ে যুক্ত করে। এতে তারা উভয়ে মিলে ব্যবসায়কে ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারছে। তাই বলা যায়, পরবর্তীতে স্বপনের অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

 প্রশ্ন:২০ কামাল, সৈকত ও রঞ্জু মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। তিনজনের মূলধন পরিমাণ সমান। সকলে সমান মুনাফা ভোগ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রঞ্জু শুধু মূলধনের সমপরিমাণ দায় বহন করে। সম্প্রতি স্বপন নামে একজন দেনাদার প্রতিষ্ঠানের পাওনা ১ লক্ষ টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছে। এজন্য অংশীদারগণ পাওনা আদায়ে আদালতের আশ্রয় নেয়ার কথা ভাবছে।

                [নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ]

 ক.         চুক্তির অবর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায় মুনাফা কিভাবে বণ্টিত হয়?               ১

 খ.          চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।           ২

 গ.          উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারি সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।       ৩

 ঘ.          ‘স্বপনের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে আদালতের আশ্রয়ই উত্তম পন্থা।’ তুমি কি একমত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।                 ৪

২০ নং প্রশ্নের উত্তর

ক চুক্তির অবর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায়ে সমহারে মুনাফা বণ্টিত হয়। অ

খ অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে। অ

অংশীদারি চুক্তিপত্র লিখিত এবং মৌখিক কিংবা লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, ব্যবসায়ের বিলোপসাধন, বিবাদ মীমাংসাসহ নানান বিষয় চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। চুক্তির মাধ্যমেই অংশীদারি ব্যবসায় জš§লাভ করে এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের সব কিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়।

গ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনের অন্তর্গত। অ

সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো একজন অংশীদারের দায় সীমিত বা সীমাবদ্ধ থাকে। এই ধরনের অংশীদাররা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারে না। এরা মূলত বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদ্দীপকে কামাল, সৈকত ও রঞ্জু মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করলেন। ব্যবসায়ে তিনজন সমান মূলধন বিনিয়োগ এবং সমান মুনাফা ভোগ করেন। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রঞ্জু তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের অতিরিক্ত দায় বহন করবেন না। অর্থাৎ রঞ্জুর দায়কে এখানে সীমিত করা হয়েছে, যা সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।

ঘ স্বপনের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে আদালতের আশ্রয়ই উত্তম পন্থা-এ ব্যাপারে আমি একমত নই। অ

লিখিত চুক্তি ছাড় অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন করা যায় না। যদিও নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অপেক্ষা নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করে।

উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়টি মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হওয়ায় ব্যবসায়টি একটি অনিবন্ধিত ব্যবসায় সংগঠন। সম্প্রতি স্বপন নামে একজন দেনাদারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা আদায় করতে না পারায় তারা আদালতের আশ্রয়ের কথা ভাবছে। কিন্তু ব্যবসায়টি অনিবন্ধিত হওয়ায় আদালত তাদের মামলা গ্রহণ করবে না।

অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন করা না হলে তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি কোনো পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করা যায় না। কিন্তু যদি নিবন্ধন করা থাকে তবে যেকোনো পরিমাণ পাওনা আদায়ে মামলা করা যায়। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন করা হয়নি, তাই পাওনা আদায়ের জন্য স্বপনের বিরুদ্ধে অংশীদারি আইন অনুযায়ী আদালতের আশ্রয় গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

 প্রশ্ন:২১ মি. সৈকত একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে বিনা মূলধনে জহির, কামরুল ও মিজান তাকে অংশীদার হিসেবে নিয়োগ দেয়। সৈকত, জহির ও কামরুল পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। কিন্তু বছর শেষে সমান মুনাফা দাবি করে।          [রাজবাড়ী সরকারি কলেজ]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা কত?               ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় অসীম ব্যাখ্যা করো।     ২

 গ.          মি. সৈকত কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।              ৩

 ঘ.          তুমি কী মনে করো মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে? যুক্তিসহ মতামত দাও।               ৪

২১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা হলো দুই জন। অ

খ অসীম দায় বলতে সীমাহীন দায়কে বোঝায়। আর ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অসীম দায় বলতে ব্যবসায়িক দায়ের জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও দায়বদ্ধ হওয়াকে এর অসীম দায় বলে। অ

অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও দায় দৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায়বদ্ধ হতে পারে। এরূপ ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার দেউলিয়া হয়ে গেলে তার অংশের ব্যবসায়িক দায় অন্য অংশীদারদের বহন করতে হয়। এজন্য বলা হয়, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় অসীম।

গ মি. সৈকত একজন কর্মী অংশীদার। অ

এ অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ না করে চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে ব্যবহার করে। এরূপ অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতা দ্বারা ব্যবসায়ে সক্রিয় থাকে। তারা অন্য অংশীদারদের মতো লাভ-লোকসানেও অংশগ্রহণ করে।

উদ্দীপকের মি. সৈকত একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে বিনা মূলধনে জহির, কামরুল ও মিজান তাকে অংশীদার হিসেবে নিয়োগ করে। অর্থাৎ মি. সৈকত মূলধন হিসেবে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করেনি। সে তার মেধা ও শ্রমকেই মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করেছে এবং এর বিনিময়ে মুনাফায় অংশগ্রহণ করছে। এসব বৈশিষ্ট্য কর্মী অংশীদারদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং মি. সৈকতকে একজন কর্মী অংশীদার বলা যায়।

ঘ উদ্দীপকে মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে বলে আমি মনে করি। অ

অংশীদারি ব্যবসায় চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত হয়। এ ব্যবসায়ের সব কাজ চুক্তিতে উল্লেখ্য নিয়ম অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

 সৈকত, জহির, কামরুল ও মিজান একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। সৈকত অর্থ বিনিয়োগ না করলেও তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জহির ও কামরুলের সাথে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু মিজান ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো অংশগ্রহণ করেনি। অর্থাৎ সে একজন নি®িক্রয় অংশীদার। তবে বছর শেষে সে অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করে।

তার এ দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে এবং এ দাবি অন্যদের মেনে নিতে হবে। কারণ এ অবস্থায় চুক্তিতে মুনাফা বণ্টনের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। আর অংশীদারি আইন অনুযায়ী মুনাফা বণ্টনের বিষয়ে চুক্তিতে কিছু উল্লেখ না থাকলে সকল অংশীদার সমানভাবে তা থেকে অংশ পাবে। তাই বলা যায়, মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।

 প্রশ্ন:২২ রাজু, সাজু ও বিজু ‘টাইলস ভিউ’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক। রাজু ব্যবসায়ে ১ কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ করেন এবং পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন। সাজু ব্যবসায়ে ৮০ লক্ষ টাকা মূলধন সরবরাহ করেন। কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। বিজু একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী; তিনি মূলধন সরবরাহ করেন না এবং পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করেন না। কিছুদিন পর রাজু দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং ব্যবসায় পরিচালনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়। সাজু ব্যবসায় বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করেন।              

[বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া]

 ক.         অংশীদারি চুক্তিপত্র কী? ১

 খ.          কাজে সক্রিয় অথচ মূলধন দেয় না কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।               ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত সাজু কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।         ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য কোন ধরনের বিলোপসাধন প্রযোজ্য? বিশ্লেষণ করো।   ৪

২২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক অশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয় বস্তুর লিখিত রূপকে চুক্তিপত্র বলে। অ

খ কাজে সক্রিয় অথচ মূলধন দেয় না কর্মী অংশীদার। অ

এ কর্মী চুক্তি অনুযায়ী তার মেধা, শ্রম, দক্ষতা ইত্যাদি মূলধন স্বরূপ বিনিয়োগ করে। অন্যদের মতো সে মূলধন বিনিয়োগ করে না। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী অন্যদের মতো মুনাফা ভোগ করে। এ অংশীদার প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালনা কাজের জন্য বেতনও পেয়ে থাকে।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত সাজু ঘুমন্ত বা নি¯িক্রয় অংশীদার। অ

এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-লোকসান ও মুনাফা অন্যদের মতো চুক্তি অনুযায়ী ভোগ করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় অংশগ্রহণ না করলেও এদের দায় অন্যদের মতো অসীম।

উদ্দীপকে রাজু, সাজু ও বিজু ‘টাইলস ভিউ’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক। রাজু ব্যবসায়ে এক লক্ষ টাকা মূলধন সরবরাহ করেন। তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন। সাজু ৮০ লক্ষ টাকা মূলধন সরবরাহ করেন। কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেন না। বিজু মূলধন সরবরাহ করেন না। তিনি পরিচালনায়ও অংশ নেন না।

সাজু, রাজু ও বিজুর ওপর আস্থা রেখে পরিচালনায় অংশ নেন না। তার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিচালনা করেন না, যা ঘুমন্ত অংশীদারের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং সাজু একজন ঘুমন্ত অংশীদার।

ঘ উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘আদালতের মাধ্যমে বিলোপসাধন’ প্রযোজ্য। অ

অংশীদারদের মধ্যে কেউ পাগল, দেউলিয়া হলে অথবা ব্যবসায় পরিচালনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে আদালতের মাধ্যমে বিলোপসধান হয়। এক্ষেত্রে কোন অংশীদার তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করলে আদালত বিলোপ সাধনের নির্দেশ দেয়। আদালতের তত্ত্বাবধানে এ অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলুপ্ত হতে পারে।

উদ্দীপকের রাজু, সাজু ও বিজু ‘টাইলস ভিউ’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক। রাজু মূলধন সরবরাহ করেন ও পরিচালনায় অংশ নেন। সাজু মূলধন সরবরাহ করেন কিন্তু তিনি পরিচালনার অংশ নেন না। অন্যদিকে বিজু ও পরিচালনায় অংশ নেন না। কিছুদিন পর রাজু দুর্ঘটনায় পতিত হন। এতে করে ব্যবসায় পরিচালনা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় সাজু ব্যবসায় বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করেন।

পরিচালনায় অক্ষম হওয়ায় ব্যবসায়টি টিকে রাখা সম্ভব না। এ অবস্থায় বিলোপসাধন প্রয়োজন। অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী এ ব্যবসায়ে বিলোপ সাধন করা যাবে। এক্ষেত্রে কোনো অংশীদারকে তাদের ব্যবসায় বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করতে হয়। কোনো অংশীদার দেউলিয়া, পাগল বা অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনা অক্ষম হলে এ পদ্ধতিতে বিলোপ সাধন হয়। উদ্দীপকের ‘টাইলস ভিউ’ প্রতিষ্ঠানের অংশীদার রাজু দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় পরিচালনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সাজু আদালতের কাছে বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করেছেন। যা আদালতের মাধ্যমে বিলোপসাধন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির জন্য আদালতের মাধ্যমে বিলোপসাধন প্রয়োজন।

 প্রশ্ন:২৩ মি. আবির একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট। তিনি তার বন্ধু শিমুলসহ আরো ১৮ জন বন্ধু নিয়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা ৫০ কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ করে। তবে মি. আবির বলেন যে, তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারবেন না এবং বিনিয়োগের অতিরিক্ত দায় নিবেন না। তবে বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিরীক্ষা করে দিবেন। সর্বসম্মতিক্রমে শিমুলকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্ব দেয়া হয়। ৪ বছর পর মি. আবিরের মৃত্যু ঘটলেও শিমুল সফলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী দেনাদার ৪০,০০০ টাকা না দেয়ায় শিমুল আইনের আশ্রয় নিয়ে তা আদায় করতে সমর্থ হন।   [কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায় কী? ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের বাধ্যতামূলক বিলোপসধান বলতে কী বোঝায়?          ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।          ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে কী কারণে শিমুলের পক্ষে আইনের আশ্রয় নেয়া সম্ভব হয়েছিল? বিশ্লেষণ করো।               ৪

২৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক গঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়কে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

খ ব্যবসায়ের সকল অংশীদার বা যেকোনো একজন ব্যতীত অন্য সকল অংশীদার আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হলে এবং ঘটনাক্রমে যদি ব্যবসায়ের কার্যকলাপ অবৈধ হয়ে পড়ে তাকে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো নতুন আইন প্রণয়নের ফলে যদি এমন কিছু ঘটে, যার ফলে অংশীদারি ব্যবসায় কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসায় অবৈধ বিবেচিত হয়, তখন বাধ্যতামূলক বিলোপসধান ঘটে। একজন ব্যতীত সকল অংশীদার একযোগে দেউলিয়া হলে বা মারা গেলে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন ঘটে। সাধারণত ৪১ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের বিলোপসধান হয়ে থাকে।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি সীমিত দায় বা সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।

সীমিত অংশীদারি ব্যবসায়ে কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় সীমিত এবং কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকে। এক্ষেত্রে সীমিত ও সীমাহীন উভয় প্রকার অংশীদার থাকে। সীমিত অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হয়।

উদ্দীপকে আবির ও তার বন্ধু শিমুলসহ আরো ১৮ জন বন্ধু নিয়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা ৫০ কোটি টাকা মূলধন হিসেবে সরবরাহ করেন। তবে মি. আবির ব্যবসায়ে পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না এবং বিনিয়োগের অতিরিক্ত দায় বহন করেন না। বিনিয়োগকৃত অর্থ পর্যন্ত তার দায় সীমাবদ্ধ। যা সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবসায়টি সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ উদ্দীপকে ব্যবসায়টি নিবন্ধন করার কারণে শিমুলের পক্ষে আইনের আশ্রয় নেয়া সম্ভব হয়েছিল বলে আমি মনে করি।

অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন বলতে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত নিবন্ধকের অফিসে ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র সংরক্ষণ ও নাম তালিকাভুক্তিকরণকে বোঝায়। এটির ফলে অংশীদারগণ ১০০ টাকা বেশি পাওনা আদায়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়ে দায়িত্বরত মি. আবিরের মৃত্যু ঘটলে শিমুল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী দেনাদার ৪০,০০০ টাকা না দেয়ায় শিমুল আইনের আশ্রয় নিয়ে টাকা আদায় করতে সমর্থন হন।

অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধনের ফলে তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো দেনাদার যদি প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রদান না করে সে ক্ষেত্রে পরিচালক আদালতে মামলা করতে পারেন। অংশীদারি আইনের ৬৯(৪) ধারা অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত না হলে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায় করতে পারে না। তাই বলা যায়, জনাব শিমুল অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধনের কারণে দেনাদারের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে সমর্থ হয়েছেন।

 প্রশ্ন:২৪ ক, খ, গ সাভারে একটি জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা দীর্ঘদিন যাবৎ সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছে। প্রাথমিকভাবে তিনজনই দুই লক্ষ টাকা করে মূলধন নিয়ে ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে আকস্মিকভাবে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়টির অস্তিত্ব প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। সুতা, রং ও শ্রমিকদের বেতন বাবদ সম্মিলিত দায়ের পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা দাঁড়িয়েছে।   [কুমিল্লা কমার্স কলেজ]

 ক.         সীমাবদ্ধ অংশীদার কে? ১

 খ.          জš§গত অধিকারের ভিত্তিতে অংশীদারি কারবার গঠিত হয় না- ব্যাখ্যা করো।        ২

 গ.          আলোচ্য উদ্দীপকটিতে অংশীদারি ব্যবসায়ের কোন গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি অনুপস্থিত? সেটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।   ৩

 ঘ.          কারখানাটি আগুনে বিনষ্ট হওয়ার পর সর্বমোট দায়ের পরিমাণেই অংশীদারগণ ব্যক্তিগতভাবে চিন্তিত। এতে অংশীদারি ব্যবসায়ের কোন বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান তা মূল্যায়ন করো।              ৪

২৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে অংশীদারের দায় চুক্তি অনুযায়ী বা আইনগত কারণে সীমাবদ্ধ থাকে তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।

খ দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে গঠিত ব্যবসায়কে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

এই ক্ষেত্রে অংশীদারদের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হতে হয়। এজন্য তাদের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য হতে হয়। কেউ পৈতৃক সূত্রে বা জš§গতভাবে অংশীদার হতে পারে না। সুতরাং জš§গত অধিকারের ভিত্তিতে অংশীদারি কারবার গঠিত হয় না।

গ আলোচ্য উদ্দীপকটিতে অংশীদারি ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘চুক্তিপত্র’ এর অনুপস্থিতি রয়েছে।

চুক্তি হলো অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল দলিল। যেখানে অংশীদারদের পারস্পরিক চুক্তির বিষয়াবলি (মূলধন, লাভ, লোকসান) উল্লেখ থাকে। এই চুক্তি লিখিত কিংবা মৌখিক হতে পারে। লিখিত চুক্তিকে চুক্তিপত্র বলে। আইন অনুযায়ী চুক্তিপত্র লিখিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যত ঝামেলা ও দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য চুক্তিপত্র লিখিত হওয়া অধিক কার্যকর।

উদ্দীপকের ক, খ, গ সাভারে একটি জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা পরিচালনা করেছেন। প্রাথমিকভাবে তিনজনই দুই লক্ষ টাকা করে মূলধন নিয়ে ব্যবসায় শুরু করেন। তাদের ব্যবসায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনো চুক্তি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেন। তারা চুক্তি ছাড়াই মূলধনও সরবরাহ করেছিলেন। যা ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবে। তাছাড়া চুক্তিপত্র ছাড়া ব্যবসায় গঠিত হলে তারা তৃতীয় পক্ষের সাথেও চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না। এতে প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিবে, তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে চুক্তিপত্র উপাদানটি অনুপস্থিত, যা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের মূল দলিল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঘ অসীম দায় বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান।

অসীম দায়ের ক্ষেত্রে অংশীদারগণ বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও দায় বহন করে। কোন অংশীদার দেউলিয়া হলে তার দায়ও অন্য অংশীদারদের বহন করতে হয়। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করে ব্যবসায়ের দায় মেটায়।

উদ্দীপকের ক, খ, গ, সাভারে একটি জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা সাফল্যের সাথে পরিচালিত করছে। প্রাথমিকভাবে তিনজনই সমানভাবে মূলধন সরবরাহ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে আকস্মিকভাবে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে ব্যবসায়ের অস্তিত্ব নষ্ট হতে বসেছে। সুতরাং, রং ও শ্রমিকের বেতন বাবদ সম্মলিত দায়ের পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। যা তারা তিজনই ব্যক্তিগতভাবে এ দায় মেটাবে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম। তাই ক, খ, গ তিনজন অংশীদারকে তাদের মূলধনের বাইরেও দায় বহন করতে হবে। তাদের ব্যবসায়ের দায় ১৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু তাদের মূলধনের পরিমাণ প্রত্যেকেরই দুই লক্ষ টাকা করে, যা দায়ের তুলনায় অনেক কম। তাদের মূলধনের অনুপাতে দায় ভাগ করে নিতে হবে। তারপর ব্যক্তিগতভাবে এ দায় বহন করতে হবে। যা ব্যবসায়ের অসীম দায় বৈশিষ্ট্যকেই ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, সর্বমোট দায়ের পরিমাণে অংশীদারগণের ব্যক্তিগতভাবে চিন্তিত থাকা প্রতিষ্ঠানের অসীম দায় বৈশিষ্ট্য।

 প্রশ্ন:২৫ জনি ও রনি মৌখিক সম্মতিতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি ব্যবসায় গঠন করেন। ব্যবসায়টি বেশ লাভজনক হওয়ায় তারা সেটি চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন দেনাদারের কাছ থেকে তারা ২৫,০০০ টাকা আদায় করতে পারছেন না বলে বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তা করছেন।  

[বি এ এফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম]

 ক.         ব্যবসায় নৈতিকতা কী?  ১

 খ.          পরিকল্পনায় নমনীয়তা বলতে কী বোঝ? ২

 গ.          জনি ও রনির ব্যবসায়টি কোন প্রকৃতির অংশীদারি ব্যবসায়? ব্যাখ্যা করো।                 ৩

 ঘ.          ২৫,০০০ টাকা পাওনা আদায়ে জনি ও রনি দেনাদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন? বিশ্লেষণ করো।      ৪

২৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক ব্যবসায়ের পরিচালনাগত ও বাহ্যিক বিষয়ে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করাকে ব্যবসায় নৈতিকতা বলে।

খ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপখাওয়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার সুযোগ রাখাকে পরিকল্পনার নমনীয়তা বলে।

ভবিষ্যৎ সর্বদা অনিশ্চিত। যেকোনো সময় পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। এ জন্য পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা পরিবর্তিত অবস্থা বিবেচনা করতে হয়। যাতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আর যা পরিকল্পনার নমনীয়তার মাধ্যমে সম্ভব হয়।

গ রনি ও জনির ব্যবসায়টি নির্দিষ্ট মেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায়।

 কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবসায় গঠিত হলে তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায় বলা হয়। এ ধরনের ব্যবসায় কোনো নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গঠিত হয়। উদ্দেশ্য অর্জন হলে ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটে। তবে অংশীদাররা চাইলে নির্দিষ্ট মেয়াদ বা উদ্দেশ্য অর্জনের পরও ব্যবসায় চালাতে পারে।

উদ্দীপকের রনি ও জনি মৌখিক সম্মতিতে একটি ব্যবসায় গঠন করে। ব্যবসায়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠিত হয়। তাদের ব্যবসায়ের মেয়াদ পাঁচ বছর। ব্যবসায়টি বেশ লাভজনকভাবে চলছে। কিন্তু ব্যবসায়টি পাঁচ বছরের জন্য গঠন করার মেয়াদ শেষে এর আপনা-আপনি বিলোপ ঘটবে। তাদের ব্যবসায়টি নির্দিষ্ট মেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, রনি ও জনির ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট মেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ ব্যবসায়ের চুক্তিপত্রে নিবন্ধন না থাকায় পাওনা আদায়ের জন্য জনি ও রনি দেনাদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন না।

চুক্তিপত্র বলতে অংশীদারদের মধ্যে চুক্তির বিষয়বস্তুর লিপিবদ্ধ দলিলকে বোঝায়। এ পত্রের নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশীদারগণ তাদের দেনা-পাওনার জন্য আইনের ব্যবস্থা নিতে পারে। এই পত্র ব্যবসায় পরিচালনার ভবিষ্যৎ দিকদর্শন হিসেবে কাজ করে থাকে।

উদ্দীপকের জনি ও রনি মৌখিক সম্মতিতে একটি ব্যবসায় স্থাপন করেন। ব্যবসায় লাভজনক হওয়ায় তারা সেটি চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন দেনাদার থেকে ২৫,০০০ টাকা আদায় করতে পারছে না বলে মামলা করতে চান। কিন্তু কোনো লিখিত চুক্তি না থাকায় তারা মামলা করতে সক্ষম হচ্ছেন না।

চুক্তিপত্র হলো অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তুর দলিল। যা ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিবন্ধন না করলে কোন আইনগত সুবিধা ভোগ করতে পারে না। জনি ও রনি কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই ব্যবসায় স্থাপন করেন। তাছাড়া তারা তাদের ব্যবসায় নিবন্ধনও করেন নি। তাই তারা দেনাদারের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত সুবিধা নিতে পারবে না। তাই বলা যায়, জনি ও রনি টাকা আদায়ের জন্য দেনাদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন না।

 প্রশ্ন:২৬ রফিক, শফিক ও আতিক তিনজন সৃজনশীল ও উদ্যমী বন্ধু। তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে “বন্ধু এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ের যথেষ্ট সুনাম ও পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জিত হওয়া সত্ত্বেও পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবে তাদের ব্যবসায়টি এক পর্র্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা আলাদা হয়ে ব্যবসায় করেন ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে একেক জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।     [কক্সবাজার সরকারি কলেজ]

 ক.         উপবিধি কী?       ১

 খ.          “কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব রয়েছে”-ব্যাখ্যা করো।         ২

 গ.          “বন্ধু এন্টারপ্রাইজ” প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।       ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে বর্ণিত তিন বন্ধুর পরবর্তীকালের ব্যবসায়ে সফলতার কারণ বিশ্লেষণ করো।           ৪

২৬ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে দলিলে সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কাজ পরিচালনার নিয়ম-কানুন লেখা থাকে তাকে উপবিধি (ইু-ষধংি) বলে।

খ কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব বলতে সহজে বিলুপ্ত হয় না এমন অস্তিত্বকে বোঝায়।

কোম্পানি সংগঠন অন্যান্য সংগঠনের মতো সহজে বিলুপ্ত হয় না বলে আইন অনুযায়ী এ ব্যবসায় চিরন্তন অস্তিত্বের মর্যাদা ভোগ করে। পৃথক ও স্বাধীন সত্তার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব ইত্যাদিও ব্যবসায়ের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে না। কেবল আইনের মাধ্যমেই এ ব্যবসায়ের বিলোপসাধন সম্ভব। তাই বলা হয়, কোম্পানির অস্তিত্ব চিরন্তন প্রকৃতির।

গ উদ্দীপকে ‘বন্ধু এন্টারপ্রাইজ’ প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনের অন্তর্গত।

দুই তা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। চুক্তি ছাড়া ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। এ চুক্তির শর্তানুযায়ী অংশীদাররা ব্যবসায় থেকে লাভ-লোকসান পেয়ে থাকে। চুক্তিতে উল্লেখ নেই এমন কোনো কাজ অংশীদাররা করতে পারে না।

উদ্দীপকে রফিক, শফিক ও আতিক তিনজনেই সৃজনশীল ও উদ্যমী বন্ধু। তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ‘বন্ধু এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একমাত্র অংশীদারি ব্যবসায়ে গঠিত হয়। তাই বলা যায়, ‘বন্ধু এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানটি একটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।

ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত তিন বন্ধুর পরবর্তীকালের ব্যবসায়টি হলো একমালিকানা ব্যবসায়।

এ ব্যবসায় একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ব্যবসায়ের মালিক একজন থাকায় তাকেই ব্যবসায়ের সমস্ত দায়-দায়িত্ব নিতে হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ে মালিকের দায় সাধারণত অসীম হয়।

উদ্দীপকে রফিক, শফিক ও আতিক তিন বন্ধু সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। তাদের ব্যবসায়ের যথেষ্ট সুনাম ও পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবের কারণে ব্যবসায়টি এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা আলাদাভাবে ব্যবসায় স্থাপন করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেন।

উদ্দীপকের তিন বন্ধু পরবর্তীতে একমালিকানা ব্যবসায় স্থাপন করেন। এই ব্যবসায়ের মালিক একজন থাকায় তিনি নিজেই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে তাকে কারও মুখাপেক্ষী হতে হয় না। ফলে তিনি নিজ গুণে ব্যবসায় পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হন। এ সব কারণেই উদ্দীপকের তিন বন্ধু একমালিকানা ব্যবসায় স্থাপন করে সফল হয়েছেন।

 প্রশ্ন:২৭

অংশীদারমূলধন২০১৬   এর মুনাফামাসিক বেতন
৬,০০,০০০১,০০,০০০—–
৪,০০,০০০১,০০,০০০—–
—–১,০০,০০০৮,০০০

                [কক্সবাজার সরকারি কলেজ]

 ক.         স্মারকলিপি কী? ১

 খ.          নাবালক কী অংশীদার হতে পারে? ব্যাখ্যা করো। ২

 গ.          উদ্দীপকে অংশীদারদের মূলধন ভিন্ন ভিন্ন হলেও মুনাফা সমহারে বর্ণিত হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।              ৩

 ঘ.          যদি ২০১৭ সালে ব্যবসায়ের ৩ লক্ষ টাকা লোকসান হয় তবে অংশীদার ‘গ’ এর দায় বর্ণনা করো।   ৪

২৭ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে দলিলে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, দায়, মূলধন, সম্মতি ইত্যাদি বিষয় সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে স্মারকলিপি বলে।

খ অংশীদারি আইন অনুযায়ী নাবালক অংশীদার হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নাবালক আইনানুযায়ী অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সকল অংশীদার সম্মত হলে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে ব্যবসায়ের কোনো লেনদেনের জন্য দায়ী করা যায় না।

গ চুক্তিপত্রে লাভ-ক্ষতি বণ্টন সম্পর্কে উল্লেখ না থাকায় উদ্দীপকের অংশীদারদের মূলধন ভিন্ন ভিন্ন হলেও মুনাফা সমাহারে পেয়েছে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। আর এই চুক্তির লিখিত রূপই চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। চুক্তিপত্রে লাভ-ক্ষতি বণ্টন সম্পর্কে উল্লেখ না থাকলে অংশীদারদের মধ্যে সমান হারে লাভ-ক্ষতি বণটন করা হয়।

উদ্দীপকে ক, খ ও গ তিনজনে মিলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। এদের মধ্যে ক ও খ ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করলেও গ কোনো মূলধন দেয়নি। তবে ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফা প্রত্যেকেই সমান হারে পায়। এক্ষেত্রে তাদের চুক্তিপত্রে লাভ-ক্ষতি বণ্টন সম্পর্কিত কোনো বিষয় উল্লেখ ছিল না। কারণ চুক্তিপত্রে লাভ-ক্ষতি বণ্টন সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকালে প্রত্যেকেই সমান হারে মুনাফা পায়। তাই বলা যায়, চুক্তিপত্রে লাভ-ক্ষতি বণ্টন সম্পর্কে উল্লেখ না থাকায় প্রত্যেকে সমানভাবে মুনাফা পেয়েছে।

ঘ উদ্দীপকে খ গ কর্মী অংশীদার হওয়ায় ২০১৭ সলে ব্যবসায়ের ৩ লক্ষ টাকা লোকসানের দায় বহনে তিনি বাধ্য থাকবেন।

কর্মী অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না। শুধু তার নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ে নিয়োজিত রাখে। চুক্তি অনুযায়ী এরা সাধারণ অংশীদারদের মতো ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনেও বাধ্য থাকবে।

উদ্দীপকে ক, খ ও গ তিন জনে মিলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। এদের মধ্যে ক ও খ ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করলেও গ ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেনি। সে শুধু নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে কাজ করে।

এক্ষেত্রে গ হলো কর্মী অংশীদার। এ ধরনের অংশীদাররা ব্যবসায়ের সকল দায় বহনে বাধ্য থাকে। তাই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে ৩ লক্ষ টাকা লোকসান হলে উক্ত লোকসানের দায়ভার গ কে বহন করতে হবে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে ৩ লক্ষ টাকা লোকসান করলে কর্মী অংশীদার হিসেবে গ কে এর দায়ভার বহন করতে হবে।

 প্রশ্ন:২৮ রাজিব, সজীব ও মুজিব মিলে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্থায়িত্বকাল তারা যে চুক্তিপত্র তৈরি করেছেন তাতে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। বেশ কিছুদিন পরিচালিত হবার পর জনাব রাজিব প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি অপর দুই অংশীদারকে লিখিত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ব্যবসায় বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।    [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট]

 ক.         সীমাবদ্ধ অংশীদার কাকে বলে? ১

 খ.          ‘অংশীদারের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা’-ব্যাখ্যা করো।   ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত অংশীদারি ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।             ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপটি কতটুকু আইনসম্মত হয়েছে বলে তুমি মনে করো? ব্যাখ্যা করো।          ৪

২৮ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে অংশীদারের দায় চুক্তি অনুযায়ী বা আইনগত কারণে মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।

খ অংশীদারদের যোগ্যতা বলতে প্রথমত অংশীদারি চুক্তি সম্পাদনে তাদের আইনগত যোগ্যতা থাকাকে বোঝায়।

অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি। চুক্তি ছাড়া এ ধরনের ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। তাই আইনানুযায়ী চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম ব্যক্তিই এ ব্যবসায়ের অংশীদার হওয়ার যোগ্য। আইন অনুযায়ী যার বয়স নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং আইনানুযায়ী চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম বিবেচিত হয় এমন ব্যক্তিই অংশীদার হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত অংশীদারি ব্যবসায়টি ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের বা সময়ের জন্য গঠিত না হয়ে অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গঠিত হয়। অর্থাৎ এ ধরনের ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল অংশীদারদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

উদ্দীপকে রাজিব, সজীব ও মুজিব মিলে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছেন। তারা তাদের ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল সম্পর্কে তাদের তৈরিকৃত চুক্তিপত্রের কোথাও উল্লেখ করেনি। বেশ কিছুদিন পর জনাব রাজীব অপর দুই অংশীদারকে লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ের বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আর এই ধরনের বিলোপ একমাত্র ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই সম্ভব। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়টি হলো ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ উদ্দীপকে গৃহীত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপ সাধন পদক্ষেপটি আইনসম্মত হয়েছে বলে আমি মনে করি।

অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার যদি অপর অংশীদারদের ব্যবসায়ের বিলোপ সংক্রান্ত লিখিত বিজ্ঞপ্তি দেয় তবে ব্যবসায়টির বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন হবে। সাধারণত ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই এ ধরনের বিলোপ সাধন হয়ে থাকে।

উদ্দীপকে রাজিব, সজীব ও মুজিব মিলে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটির স্থায়িত্ব সম্পর্কে তাদের তৈরিকৃত চুক্তিপত্রের কোথাও উল্লেখ করেনি। বেশ কিছুদিন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবার পর জনাব রাজীব প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি অপর দুই অংশীদারকে লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন হবে। এই ধরনের বিলোপসাধনের জন্য প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ডে লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। উদ্দীপকের জনাব রাজীবও তাই অপর দুই অংশীদারদের লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার বিলোপসংক্রান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা আইনসম্মত হয়েছে বলে আমি মনে করি।

 প্রশ্ন:২৯ মিসেস মুনিরা ঢাকার একটি বিখ্যাত বুটিক হাউজের মালিক। তার এক বান্ধবীর সহযোগিতায় মাত্র ৫ জন শ্রমিক নিয়ে তিনি প্রথম ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। এখন তাঁর ৬টি কারখানায় একশজন শ্রমিক কাজ করে। একজন ম্যানেজারও নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু আগের মতো প্রতিষ্ঠান চলছে না। কখনো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অনুপস্থিত থাকলে সমস্যার সীমা থাকে না। তাই তিনি তার ছোট বোন সনিয়াকে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের অংশীদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।            [সিলেট সরকারি কলেজ]

 ক.         ব্যবসায় পরিবেশ কী?      ১

 খ.          প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলতে কী বোঝায়?    ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত মিসেস মুনিরার প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়ের ধরন ব্যাখ্যা করো।        ৩

 ঘ.          ছোট বোন সনিয়াকে ব্যবসায়ের অংশীদার করা যৌক্তিক হয়েছে? যুক্তিসহ তোমার মতামত ব্যাখ্যা করো।     ৪

২৯ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে একটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।

খ কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক কৌশল ও পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে।

বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। বিজ্ঞান আমাদের নতুন নতুন জ্ঞান ও শিক্ষা দেয়। কিন্তু এ জ্ঞানের ব্যবহার ঘটে প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে কম খরচে নতুন নতুন পণ্য ও সেবার উৎপাদন সম্ভব হয়। তাই যেসব দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে উন্নত তারা শিল্প বাণিজ্যেও উন্নত হয়।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত মিসেস মুনিরার প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

এ ব্যবসায় একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ব্যবসায়ের মালিক একজন থাকায় ইচ্ছা করলেই সহজে সীমিত মূলধন নিয়ে গঠন করা যায়। এ ব্যবসায়ের যাবতীয় লাভ মালিক একই ভোগ করে। তাই লোকসান হলেও সমস্ত দায় তাকেই বহন করতে হয়।

উদ্দীপকে মিসেস মুনিরা ঢাকার একটি বিখ্যাত বুটিক হাউজের মালিক। তিনি তার এক বান্ধবীর সহযোগিতায় মাত্র ৫ জন শ্রমিক নিয়ে এ ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর ৬টি কারখানা রয়েছে। এখানে ১০০ জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এই ব্যবসায়ে তিনি নিজেই মালিক এবং বাকিরা সবাই শ্রমিক। একমালিকানা ব্যবসায় একজন মাত্র মালিক দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তাই বলা যায়, মিসেস মুনিরার প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

ঘ উদ্দীপকে ছোট বোন সনিয়াকে ব্যবসায়ের অংশীদার করায় ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে, এক্ষেত্রে মিসেস মুনিরার এ সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে মনে করি।

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। চুক্তির শর্তানুযায়ী অংশীদারদের মধ্যে লাভ-লোকসান বণ্টন করা হয়। চুক্তিপত্রে উল্লেখ নেই এমন কোনো কাজ অংশীদাররা করতে পারেন না।

উদ্দীপকে মিসেস মুনিরা ঢাকার একটি বিখ্যাত বুটিক হাউজের মালিক। তিনি তার ব্যবসায়টি ৫ জন শ্রমিক নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ৬টি কারখানায় ১০০ জন শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু তার ব্যবসায়টি এখন আর আগের মতো চলছে না। কারণ তিনি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকেন। এজন্য তিনি ব্যবসায়ের কাজে সময় দিতে পারছে না। তিনি তার ছোট বোন সনিয়াকে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের অংশীদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়ে পরিণত হবে।

একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক একজন থাকায় অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তি সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়টি সার্বিকভাবে পরিচালনা করা যায় না। ফলে প্রতিষ্ঠানের লোকসানের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ে। এ অবস্থায় ব্যবসায়টিকে অংশীদারি ব্যবসায়ে পরিণত করার প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতেও তাই হয়েছে। মিসেস মুনিরার অসুস্থতার কারণে তিনি তার ছোট বোন সনিয়াকে ব্যবসায়ের অংশীদার করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মিসেস মুনিরার অনুপস্থিতে সনিয়া ব্যবসায় পরিচালনা করবে। ফলে ব্যবসায়টিকে আর লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে না। তাই বলা যায়, মিসেস মুনিয়ার অংশীদারি ব্যবসায় গঠনের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

 প্রশ্ন:৩০ ক, খ ও গ সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করলেও তা নিবন্ধন করেনি। তিনজনের মূলধনের পরিমাণ সমান এবং মুনাফা ভোগের হার ও সমানুপাতিক, তবে ক তার মূলধনের অতিরিক্ত দায় বহন করে না। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অনেক চেষ্টা করেও একজন দেনাদারের কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা আদায় করতে পারছে না। তারা পাওনা আদায়ের জন্য আদালতের আশ্রয় নেয়ার কথা ভাবছে।     

[সিলেট সরকারি কলেজ]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায়ের সর্বনিু সদস্য সংখ্যা কতজন?            ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ের অসীম দায় বলতে কী বোঝায়?         ২

 গ.          উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।   ৩

 ঘ.          তুমি কি মনে করো প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে পাওনা আদায় করতে পারবে? যুক্তিসহ তোমার মতামত ব্যাখ্যা করো।      ৪

৩০ নং প্রশ্নের উত্তর

ক অংশীদারি ব্যবসায়ের সর্বনিু সদস্য সংখ্যা দুই জন।

খ অংশীদারি ব্যবসায়ে বিনিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের ব্যক্তিগত দায় সৃষ্টি হওয়াকে অংশীদারি ব্যবসায়ের অসীম দায় বলে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রধান অসুবিধা হলো এ ব্যবসায়ের সকল সদস্যদের দায় অসীম। এক্ষেত্রে অংশীদারকে ব্যবসায়ের সমস্ত দেনার জন্য পৃথকভাবে দায়ী হতে হয়। কোনো অংশীদার যদি তার অংশের দেনার পরিশোধে অক্ষম হয় তাহলে অন্যান্য অংশীদার ব্যবসায়ের সকল দেনা পরিশোধে বাধ্য থাকে। এমনকি এই দেনা পরিশোধের জন্য ব্যবসায়িক সম্পদ যথেষ্ট না হলে অংশীদারগণের ব্যক্তিগত সম্পদও দায়বদ্ধ থাকে। এটিই অংশীদারি ব্যবসায়ের অসীম দায়।

গ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনের অন্তর্গত।

সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ে কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় সীমিত থাকে। এই ধরনের অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় তা সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের ব্যবসায়ে সীমিত অংশীদারের দায় তার বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।

উদ্দীপকে ক, খ ও গ সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তবে তারা তাদের ব্যবসায়টির নিবন্ধন করেনি। তাদের ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ সমান এবং মুনাফা ভোগের হারও সমানুপাতিক। তবে ‘ক’ তার মূলধনের অতিরিক্ত দায় বহন করবে না। এক্ষেত্রে ক হলো সীমাবদ্ধ অংশীদার। কারণ সীমাবদ্ধ অংশীদার বিনিয়োগকৃত মূলধনের অতিরিক্ত বহন করে না। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ক’ এর দায়ের কারণে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলা যায়।

ঘ নিবন্ধন না থাকার কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে পাওনা আদায় করতে পারবে না।

অংশীদারি ব্যবসায়ে সংগঠনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনিবন্ধিত ব্যসায়ের তুলনায় নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় বেশি সুবিধা ভোগ করে। বিশেষত ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিতে পারে।

উদ্দীপকে ক, খ ও গ সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তারা তাদের ব্যবসায়টির নিবন্ধন করেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অনেক চেষ্টা করেও একজন দেনাদারের কাছে থেকে ১০,০০০ টাকা আদায় করতে পারছে না। এ অবস্থায় তারা তাদের পাওনা আদায়ের জন্য আদালতের আশ্রয় নেয়।

আদালতের আশ্রয় নিয়েও ক, খ ও গ তাদের পাওনা আদায় করতে পারবে না। কারণ তাদের ব্যবসায় সংগঠনটি একটি অনিবন্ধিত ব্যবসায় সংগঠন। এক্ষেত্রে অংশীদারি আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন করে তাহলে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করতে পারবে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাওনা ১০,০০০ টাকা আদালতের মাধ্যমে আদায় করতে পারবে না।

 প্রশ্ন:৩১ সাবু, মোস্তাক, জিয়া ও হাবিব চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসায় শুরু করে। তারা প্রত্যেকে ১ লক্ষ টাকা মূলধন সরবরাহ করে। কিছুদিন পর জাকির তাদের ব্যবসায় যোগ দেয়। কিন্তু কোনো মূলধন সরবরাহ করে না। জাকির বেশ পরিশ্রমী, সে ব্যবসায় সব থেকে সময় ও শ্রম দিয়ে থাকে। বছর শেষে মুনাফা বণ্টনের সময় সাবু জাকিরকে মুনাফা প্রদানে অপত্তি জানালেও তার আপত্তি আইনে খারিজ হয়ে যায়।

[সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা]

 ক.         ক্রেডিট কার্ড কী?             ১

 খ.          অনলাইন ব্যাংকিং বলতে কী বুঝ?             ২

 গ.          উদ্দীপকে জাকির কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠনে কিসের ভিত্তিতে যোগ দেয়? এভাবে যোগ দেয়া কী সংগত হয়েছে?                ৩

 ঘ.          সাবুর আপত্তি নাকচ হলো কেন? কারণসহ বুঝিয়ে লেখো।               ৪

৩১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক চুম্বকীয় শক্তিসম্পন্ন যে প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ঋণ সুবিধাসহ বাকিতে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে তাকে ক্রেডিট কার্ড বলে।

খ ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং কাজ করাকে অনলাইন ব্যাংকিং বলে।

এক্ষেত্রে অনলাইনে আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান, অর্থ স্থানান্তর, ইত্যাদি ব্যাংকিং কাজ করা যায়। গ্রাহককে স্বশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত হতে হয় না। ঘরে বসেই গ্রাহক ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা নিতে পারে। এতে গ্রাহকের সময় ও ব্যয় হ্রাস পায়।

গ জাকির অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনে মেধা ও শ্রমের ভিত্তিতে কর্মী অংশীদার হিসেবে যোগদান করেছে।

কর্মী অংশীদার তার মেধা ও শ্রমের দ্বারা অংশীদার হিসেবে গণ্য হয়। এ অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না। কিন্তু লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে। অন্যদের ন্যায় অসীম দায় বহন করে থাকে। ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এরা নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লভ্যাংশ পায়।

উদ্দীপকের সাবু, মোস্তাক, জিয়া ও হাবিব চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসায় শুরু করে। তারা মূলধন সরবরাহ করে। কিছুদিন পর জাকির ব্যবসায় যোগদান করে। সে কোন মূলধন সরবরাহ করে না। ব্যবসায়ে সবসময় জাকির শ্রম দিয়ে থাকে। বছর শেষে মুনাফা ভোগ করে থাকে অন্যদের মতো। এসব বৈশিষ্ট্য কর্মী অংশীদারের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায়, জাকির একজন কর্মী অংশীদার এবং তার যোগদান যৌক্তিক।

ঘ অংশীদারি আইন অনুযায়ী কর্মী অংশীদার মুনাফা পাবে। তাই সাবুর আপত্তি নাকচ হলো। অ

কর্মী অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না। মেধা ও শ্রমের জন্য অংশীদার হিসেবে গণ্য হয়। মেধা, শ্রম ও দক্ষতাকেই পুঁজি হিসেবে নিয়োগ করে থাকে। অন্যদের মতো অংশীদার হিসেবে দায় দায়িত্ব পালন করে থাকে। বছর শেষে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফাও ভোগ করে।

উদ্দীপকের সাবু, মোস্তাক, জিয়া ও হাবিব চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসায় শুরু করে। তারা প্রত্যেকে ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে। কিছুদিন পর জাকির অংশীদার হিসেবে যোগ দেয়। কিন্তু কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না। সে ব্যবসায়ে সব সময় শ্রম দিয়ে থাকে। বছর শেষে অন্যদের মতো সে মুনাফা দাবি করে। কিন্তু সাবু তাকে মুনাফা প্রদানে আপত্তি জানালে আইনে খারিজ হয়ে যায়। জাকির একজন কর্মী অংশীদার। অংশীদারি আইন অনুযায়ী এ অংশীদার মূলধন বিনিয়োগ না করেও অংশীদারত্ব লাভ করে। চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার দাবি করতে পারবে। তার এই দাবি বৈধ বলে বিবেচিত হবে। কোন অংশীদার তার মুনাফা দিতে না চাইলে কর্মী অংশীদার আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। অন্যদিকে, কোন অংশীদার মুনাফা দিতে আপত্তি জানালে তা অবৈধ হবে। উদ্দীপকে সাবুর ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। তাই সাবু আপত্তি জানালে তা আইনে খারিজ হয়ে যায়।

 প্রশ্ন:৩২ সখা, টুলু ও জয় মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে হোটেলে হোটেলে দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করা শুরু করলো। মূলধন হিসাবে তারা যথাক্রমে ৩০,০০০, ৪০,০০০ ও ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলো। কিছুদিন পর মুনাফা বন্টন নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয় এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।             [সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা]

 ক.         বিলম্বিত শেয়ার কাকে বলে?         ১

 খ.          যোগ্যতা সূচক শেয়ার বলতে কী বুঝ?       ২

 গ.          উদ্দীপকে সখা, টুলু ও জয় মিলে কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তুলেছে? বুঝিয়ে লেখো।          ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পেছনে তুমি কোন কারণটিকে দায়ী করবে? কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারতো বলে তুমি মনে করো।               ৪

৩২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ বণ্টন ও মূলধন প্রত্যাবর্তনের সময় সবার শেষে অংশগ্রহণ করে তাকে বিলম্বিত শেয়ার বলে।

খ কোম্পানির পরিচালক হতে হলে যে সংখ্যক সাধারণ শেয়ারের মালিক হতে হয়, তাকে যোগ্যতাসূচক শেয়ার বলে।

 কোন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হতে হলে একটি নির্দিষ্টি সংখ্যক শেয়ার ক্রয় করতে হয়। এক্ষেত্রে কোম্পানির প্রবর্তকগণ এই শেয়ারের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেন। এই শেয়ারের পরিামণ কী হবে তা কোম্পানির সংঘবিধিতে উল্লেখ থাকে।

গ উদ্দীপকে সখা, টুলু ও জয় মিলে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তুলেছে।

অংশীদারদের পারস্পরিক চুক্তি ও সমঝোতার ভিত্তিতে এই সংগঠন গঠিত হয়। সদস্য সংখ্যা সর্বনিু ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হয়ে থাকে। অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী মূলধন বিনিয়োগ করে থাকে। লাভ-লোকসান এবং দায়ও চুক্তি অনুযায়ী ভোগ করে থাকে। তবে অংশীদারদের দায় অসীম হয়ে থাকে।

উদ্দীপকের সখা, টুলু ও জয় মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা হোটেল হোটেলে গিয়ে দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করে। তারা তিনজনই ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে। এক্ষেত্রে সখা, টুলু ও জয় যথাক্রমে, ৩০,০০০, ৪০,০০০ ও ৫০,০০০, টাকা বিনিয়োগ করে। তাদের সংগঠনের বৈশিষ্ট্যের সাথে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, সখা, টুলু ও জয় মিলে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তুলেছে।

ঘ চুক্তিপত্র না থাকায় ব্যবসায়টি বন্ধ হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

চুক্তিপত্রে অংশীদারদের পারস্পরিক দায় দায়িত্ব উল্লেখ থাকে। চুক্তি লিখিত অথবা মৌখিক হতে পারে। মৌলিক হতে লিখিত চুক্তি অধিক কার্যকর। লিখিত চুক্তিপত্রে ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম, বিলোপসধান, মূলধন, মুনাফা, দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকে। এতে চুক্তি অনুযায়ী অংশীদারগণ দায় দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।

উদ্দীপকের সখা, টুলু ও জয় মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে। তারা হোটেলে দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করে। কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই তারা মূলধন বিনিয়োগ করে। কিছুদিন পর মুনাফা বণ্টন নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

উদ্দীপকের সংগঠনের কোন চুক্তি বা চুক্তিপত্র না থাকায় ঝামেলা শুরু হয়। এতে মুনাফা বণ্টন নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়ে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হতো। চুক্তিপত্রে অংশীদারদের পারস্পরিক বিষয় সম্পর্কে উল্লেখ থাকে। এতে কে কতটুকু মূলধন সরবরাহ করবে, মুনাফা ভোগ করবে তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। ফলে তাদের মধ্যে মুনাফা বণ্টন বা দায় দায়িত্ব নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। অন্যদিকে এসব বিষয় নিয়ে চুক্তি না থাকলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যায়। যা উদ্দীপকেও পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা চুক্তির মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।

 প্রশ্ন:৩৩ মিমি ও মুজাহিদুল স্বামী-স্ত্রী। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তারা সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায় করবে। কতিপয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে তারা দুজনে নিজ নিজ পুঁজি যৌথভাবে বিনিয়োগ করে একটি অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। তারা এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি পত্রের খসড়া প্রস্তুত করল। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলেও তারা লাভজনকভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে।             

[পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায় কী? ১

 খ.          অংশীদারি ব্যবসায়ে চুক্তিপত্রের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।         ২

 গ.          মিমি ও মুজাহিদুল তাদের অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনা করতে গিয়ে সম্ভাব্য যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন সেগুলো চিহ্নিত করো।    ৩

 ঘ.          “কম ঝুঁকিতে অধিক পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে সহজেই অংশীদারি কারবার গঠন করা যায়” ব্যাখ্যা করো। ৪

৩৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

খ অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লেখা থাকে তাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র বলে।

চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। চুক্তি অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালিত হয়। চুক্তিতে উল্লেখ নেই এমন কোনো কাজ অংশীদাররা করতে পারে না। এই চুক্তিপত্রের মধ্যে অংশীদারি ব্যবসায়ের নাম, ঠিকানা, অংশীদারদের নাম, ঠিকানা, পেশা, মূলধনের পরিমাণ; ব্যবসায়ে পরিচালনা পদ্ধতি, লাভ লোকসান বণ্টন পদ্ধতি ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। তাই অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র লিখিত হওয়া উত্তম।

গ উদ্দীপকে মিমি ও মুজাহিদুলের গঠিত ব্যবসায়টি হলো অংশীদারি ব্যবসায়। এ ধরনের ব্যবসায় পরিচালনা করতে গিয়ে অংশীদারদের বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। চুক্তি ছাড়া এ ধরনের ব্যবসায় গঠন করা যায় না। চুক্তির শর্তানুযায়ী অংশীদারদের মধ্যে লাভ-লোকসান বণ্টিত হয়।

উদ্দীপকে মিমি ও মুজাহিদুল উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও কতিপয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ ব্যবসায় পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের সীমাহীন দায় বহন করতে হবে। অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় অসুবিধা হবে। সদস্য কম থাকায় মূলধনের সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়াও এই ব্যবসায়ের স্থায়িত্বের অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং তারা উক্ত অংশীদারি ব্যবসায়টি পরিচালনা করতে গিয়ে এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

ঘ কম ঝুঁকিতে অধিক পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে সহজেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করা যায় উক্তিটি যৌক্তিক।

চুক্তির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয়। সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় এই ব্যবসায়ের ঝুঁকি বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার মূলধনের পরিমাণও বাড়ে। এ ধরনের ব্যবসায় সকল অংশীদারের পক্ষ থেকে একজনের দ্বারা পরিচালিত হয়।

উদ্দীপকে মিমি ও মুজাহিদুল উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও কতিপয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ নিজ পুঁজি যৌথভাবে বিনিয়োগ করে একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে তারা একটি চুক্তিপত্রের খসড়া প্রস্তুত করলো। ব্যবসায়টিতে বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও তারা তা লাভজনকভাবে পরিচালনা করছে।

একাধিক সদস্য নিয়ে অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয়। ফলে এ ব্যবসায়ে সঠিক মূলধনের সমাবেশ ঘটে। আবার একাধিক সদস্য থাকায় ঝুঁকি বণ্টনেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা ব্যবসায়ের সদস্যদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে আইনগত কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না বলে তা সহজেই গঠন করা যায়। তাই বলা যায়, কম ঝুঁকিতে অধিক পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে সহজেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করা যায়।

 প্রশ্ন:৩৪ জনাব অপু, তপু ও নীপু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৫ বছরের জন্য একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। জনাব নীপু ব্যবসায়ে যুক্ত হলেও কেবল বার্ষিক নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার সুনাম ব্যবহার করার সম্মতি দেন। ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ব্যবসায়টি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় ও ৫০ লক্ষ টাকার দেনার সৃষ্ট হয়। অপু ও তপু এই দায় বহনে সম্মত হলেও নীপু দায় বহনে অস্বীকৃতি জানান।      

[ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ]

 ক.         অংশীদারি চুক্তিপত্র কী? ১

 খ.          ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে কী বোঝ?                ২

 গ.          উদ্দীপকে আলোচিত ব্যবসায়টি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায়? ব্যাখ্যা করো।   ৩

 ঘ.          তুমি কি মনে করো জনাব নীপুর দায় বহনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন যৌক্তিক? তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।   ৪

৩৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তির বিষয়বস্তুর লিখিত রূপাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

খ সমাজের বিভিন্ন পক্ষের (ক্রেতা, ভোক্তা, সরকার) প্রতি ব্যবসায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়ই হলো ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা।

উৎপাদক, সরবরাহকারী, ক্রেতা, ভোক্তা, সরকার মধ্যস্থকারী ইত্যাদি উপাদান নিয়েই গঠিত হয়। ব্যবসায়কে সমাজের এসব পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজের এই সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ধরনের পারিশ্রমিক, ভালো পণ্য, চাকরির নিরাপত্তাও আশা থাকে ব্যবসায়ের প্রতি। আর এসব ব্যবসায়কে দায়িত্ব হিসেবে পালন করতে হয়।

গ উদ্দীপকে আলোচিত ব্যবসায়টি ‘নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি ব্যবসায়’।

এ ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠিত হয়। মেয়াদ শেষ হলে আপনাআপনিই ব্যবসায়ের বিলোপসধান হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ব্যবসায় চালানো সম্ভব হয় না।

উদ্দীপকে জনাব অপু, তপু ও নীপু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় গঠন করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরের জন্য গঠিত হয়। এই মেয়াদের পর তাদের ব্যবসায়ের বিলোপসধান হবে। তারা মেয়াদ শেষে ব্যবসায় আর চালাতে পারবে না। তাদের ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট মেয়াদে গঠিত ব্যবসায়ের সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত ব্যবসায়টি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ নীপুর দায় বহনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন অযৌক্তিক।

অংশীদারি ব্যবসায় কোনো রকম মূলধন, শ্রম, দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ না করে অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হয় নামমাত্র অংশীদার। এরা শুধু নিজের নাম ব্যবহার করতে দেয় প্রতিষ্ঠানকে। যার বিনিময়ে তারা মুনাফা ভোগ করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানে দায়ের জন্য এরা দায়ী থাকে। অর্থাৎ সাধারণ অংশীদারের মতো এদের দায় অসীম।

উদ্দীপকের জনাব অপু, তপু ও নীপু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পাঁচ বছরের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। জনাব নীপু ব্যবসায়ে যুক্ত হলেও কেবল বার্ষিক নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার সুনাম ব্যবহার করার সম্মতি দেন। ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ব্যবসায়টি ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়। ব্যবসায়ের ৫০ লক্ষ টাকা দেনার সৃষ্টি হয়। অপু ও তপু এই দায় বহনে সম্মত হলেও নীপু দায় বহনে অস্বীকৃতি জানায়।

প্রতিষ্ঠানে নীপুর ভূমিকা হিসেবে তিনি একজন নামমাত্র অংশীদার। এ অংশীদার কোনো মূলধন, শ্রম, দক্ষতা বিনিয়োগ করে না। নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানকে নিজের নাম ব্যবহার করতে দেয়। এরা সাধারণ অংশীদারের মতো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ভোগ করে। এদের দায় অসীম হয়ে থাকে। কিন্তু নীপু উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের দায় বহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। নামমাত্র অংশীদার হিসেবে তিনি দায় বহনে বাধ্য। অপু ও তপুর মতো তাকেও প্রতিষ্ঠানের দায় বহন করতে হবে। সুতরাং নীপুর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন যৌক্তিক নয়।

 প্রশ্ন:৩৫ জাহিদ, জাবির ও জামির তিন বিশ্বস্ত বন্ধু। তারা জানতো আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে ব্যবসায়ে সফলতা আসে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় তারা একটা স্টল নিলো। জাহিদ ৫০,০০০, জাবির ৪০,০০০ এবং জামির ৩০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করল। মেলা শেষে ১,০০,০০০ টাকা লাভ হলো। জাহিদ বেশি মূলধন দেয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি মুনাফা দাবি করল। এতে জাবির ও জামির আপত্তি করলো। জাহিদ ব্যবসায় ছেড়ে চলে গেল এবং জামির এ জামির নতুন করে ব্যবসায় শুরু করার কথা ভাবছে।               [সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ]

 ক.         অংশীদারি ব্যবসায় কী? ১

 খ.          অংশীদারি চুক্তি কেন দরকার?     ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে অংশীদারদের মধ্যে কী হারে মুনাফা বণ্টন হবে? ব্যাখ্যা করো।             ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে জাবির ও জামির ব্যবসায়টি অব্যাহত রাখতে চাইলে কি করণীয় আছে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।           ৪

৩৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক চুক্তির ভিত্তিতে ২ থেকে ২০ জন (ব্যাংকিং ব্যবসায়ে সর্বোচ্চ ১০ জন) ব্যক্তি যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

খ একাধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

এ ব্যবসায় গঠন ও পরিচালিত হয় চুক্তির ভিত্তিতে। এরূপ ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখা হয় চুক্তিতে কী উল্লেখ আছে। পরবর্তী পর্যায়ে অংশীদারি আইন দেখা হয়। তাই বলা হয়, অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয় চুক্তির ভিত্তিতে; সামাজিক মর্যাদা বা বংশগত মর্যাদা থেকে নয়। এজন্য অংশীদারি চুক্তি দরকার।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে অংশীদারদের মধ্যে সমহারে মুনাফা বণ্টন করতে হবে।

চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালিত হয়। চুক্তিতে মূলধন সরবরাহ ও লাভ-লোকসান বণ্টনের ব্যাপারে যা উল্লেখ থাকবে ব্যবসায় পরিচালনায় তাই কার্যকর হয়। তবে চুক্তিতে এ ব্যাপারে কিছু উল্লেখ না থাকলে অংশীদারগণ সমহারে তা বণ্টন করবে।

উদ্দীপকের জাহিদ, জাবির ও জামির চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করে। এতে তারা যথাক্রমে ৫০,০০০ টাকা, ৪০,০০০ টাকা ও ৩০,০০০ টাকা করে মূলধন বিনিয়োগ করে। ব্যবসায়ের মেয়াদ শেষে তারা ১,০০,০০০ টাকা মুনাফা অর্জন করে। এতে জাহিদ বেশি মূলধন দেয়ায় তিনি বেশি মুনাফা দাবি করে। তবে এতে অন্যরা আপত্তি জানায়। তাদের এ আপত্তি যথার্থ। যেহেতু মুনাফা বণ্টনের ব্যাপারে পূর্বে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, সেহেতু তা অংশীদারদের মধ্যে সমহারে বণ্টন করতে হবে।

ঘ উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে জাবির ও জামির ব্যবসায়টি অব্যাহত রাখতে চাইলে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসায় শুরু করতে হবে।

অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো একজন ব্যক্তি দেউলিয়া বা ব্যবসায় চালাতে অসমর্থ হলে ঐ ব্যবসায়ের বিলোপসাধন করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়টি চালু রাখা সম্ভব হয় না। তাই এ ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হলে নতুন করে ব্যবসায় গঠনের চুক্তি করতে হয়।

উদ্দীপকে জাহিদ, জাবির ও জামির অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে জাহিদ ব্যবসায় ছেড়ে চলে যায়। তবে জাবির ও জামির নতুন করে ব্যবসায় শুরু করার কথা ভাবছে। অংশীদারি আইন অনুযায়ী কোনো অংশীদার মারা গেলে বা ব্যবসায় ছেড়ে চলে গেলে উক্ত ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটে। অন্য অংশীদারগণ উক্ত ব্যবসায় অব্যাহত রাখতে চাইলে নতুন করে চুক্তি সম্পাদন করে ব্যবসায় সেই চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। উদ্দীপকের জাহিদ ব্যবসায় ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের পূর্ববর্তী ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটেছে। উক্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম জাবির ও জামির চালু রাখতে চাইলে তাদের আবার নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নতুনভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে হবে।

 প্রশ্ন:৩৬ তমাল, অনিক ও আদনান একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। তিনজনের মূলধনের পরিমাণ সমান এবং মুনাফা ভোগের হারও সমানুপাতিক। তবে তমাল তার মূলধনের অতিরিক্ত দায় বহন করে না। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত আইনে নিবন্ধিত। বর্তমানে অনেক চেষ্টা করেও এক দেনাদারের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা আদায় করতে পারছে না। তারা ভাবছে পাওনা আদায়ের জন্য আদালতের আশ্রয় নিবে।  

[পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাব. স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া]

 ক.         ঘুমন্ত অংশীদার কী?       ১

 খ.          নাবালক কী অংশীদার হতে পারে? ব্যাখ্যা করো। ২

 গ.          উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায়? ব্যাখ্যা করো।           ৩

 ঘ.          উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে পাওনা টাকা আদায় করতে পারবে কী? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।                ৪

৩৬ নং প্রশ্নের উত্তর

ক কোনো সাধারণ অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলে তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।

খ আইন অনুযায়ী নাবালক অংশীদার হতে পারে না।

অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নাবালক আইন অনুযায়ী অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সকল অংশীদার সম্মত হলে সাবালকত্ব প্রাপ্তি পর্যন্ত নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নাবালক বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত দায় বহন করবে।

গ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

এ ব্যবসায় কমপক্ষে দুজনের দায় অসীম থাকে। তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হলে একজনের দায় সসীম হবে। বাকি দুজনের দায় অসীম হতে হবে। সীমিত অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারে না। সে এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু মুনাফার ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী ভোগ করে থাকে।

উদ্দীপকে তমাল, অনিক ও আদনান একটি ব্যবসায় পরিচালনা করছে। তারা সমান মূলধন বিনিয়োগ করেন। মুনাফাও সমান ভোগ করেন। তবে তমাল তার মূলধনের অতিরিক্ত দায় বহন করে না। যা আমরা সীমিত অংশীদারের ক্ষেত্রে দেখতে পাই। সীমিত অংশীদার তার বিনিয়োগের অর্থের চেয়ে বেশি দায় বহন করে না। এসব বৈশিষ্ট্য সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।

ঘ উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে পাওনা টাকা আদায় করতে পারবে।

চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয়। চুক্তিতে অংশীদারদের দায় দেনা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকে। এই চুক্তি অংশীদারি আইনের আওতায় নিবন্ধন করা যায়। নিবন্ধনের ফলে ব্যবসায়ে পৃথক আইনগত সত্তা তৈরি হয়। যা প্রতিষ্ঠানকে আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠান তার অধিকার আদায়ে আইনের সাহায্য নিয়ে থাকে। আদালত তার দাবি বৈধ প্রমাণ করে তাকে দাবি আদায়ে সক্ষম করে।

উদ্দীপকের তমাল, অনিক ও আদনান একটি সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনা করছে। তারা সবাই সমান মূলধন বিনিয়োগ করে, সমান অনুপাতে মুনাফাও ভোগ করে। তারা প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত আইনে নিবন্ধন করেছে। বর্তমানে একজন দেনাদার থেকে টাকা আদায় করতে পারছে না। তাই তারা আদালতের আশ্রয় নিবে, দাবি আদায়ের জন্য।

তাদের প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিতে পারবে। এতে তারা টাকা আদায় করতে পারবে। অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত হলে আইনগত সুবিধা ভোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবসায় যেকোনো বৈধ দাবি আইনের মাধ্যমে আদায় করতে পারবে। তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা মকদ্দমা করতে পারে। অন্যদিকে অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত না হলে এই সুবিধা পায় না। ব্যবসায়ের দাবি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি আইনের অধীনে নিবন্ধিত। তাই বলা যায়, প্রতিষ্ঠান আদালতের মাধ্যমে পাওনা টাকায় আদায় করতে পারবে।

 প্রশ্ন:৩৭ জনাব রাজিব একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে বকুল, মুকুল ও শিমুল তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। বকুল, মকুল পরিচালনায় অংশ নেয়। কিন্তু শিমুল পরিচালনায় অংশ নেয়নি। অথচ বছর শেষে সমান মুনাফা দাবি করে।

                [ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, পার্বতীপুর, দিনাজপুর]

 ক.         ট্রেড লাইসেন্স কী?          ১

 খ.          ‘অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম’ ব্যাখ্যা করো।              ২

 গ.          জনাব রাজিব কোন ধরনের অংশীদার? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।             ৩

 ঘ.          তুমি কি মনে করো জনাব শিমুল অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।          ৪

৩৭ নং প্রশ্নের উত্তর

ক ব্যবসায় শুরুর জন্য স্থানীয় সরকার বা পৌরসভা কর্তৃক প্রদানকৃত অনুমতিপত্রকে ট্রেড লাইসেন্স বলে।

খ অংশীদারি ব্যবসায়ের অসীম দায় বলতে বিনিয়োগৃকত মূলধনের বাইরে ও ব্যক্তির দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়।

এই ব্যবসায়ের দায় পরিশোধের জন্য ব্যবসায়িক সম্পদ যথেষ্ট না হলে ব্যক্তি নিজস্ব সম্পদ দিয়ে দায় মিটায়। অনেক সময় কোনো অংশীদার দেউলিয়া হলে বাকি অংশীদারদের তার দায় পরিশোধ করতে হয়। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ে দায় অসীম।

গ জনাব রাজিব একজন কর্মী অংশীদার।

কর্মী অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ না করে নিজস্ব মেধা, দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে অংশীদারিত্ব লাভ করে। এ অংশীদার অন্যদের মতো চুক্তি অনুযায়ী লাভ-লোকসান ভোগ করে। অন্যদের মতো তার দায়ও অসীম। এ ধরনের অংশীদার পরিালনার জন্য নির্দিষ্ট হারে বেতন পায়।

উদ্দীপকের জনাব রাজিব একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনেক। তাই বকুল, মুকুল ও শিমুল তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসেবে নেয়। সে বকুল, মুকুল ও শিমুলের মতো ব্যবসায়ের দায় বহন করেন। তাছাড়া পরিচালনায় অংশ নিয়ে নির্দিষ্ট বেতন ভোগ করে। যা কর্মী অংশীদার এর বৈশিষ্ট্য। সুতরাং জনাব রাজিব একজন কর্মী অংশীদার।

ঘ হ্যাঁ, জনাব শিমুল ঘুমন্ত অংশীদার হওয়ায় অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।

ঘুমন্ত অংশীদাররা ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে, লাভ-ক্ষতি ভোগ করে। কিন্তু ব্যবসায়ে পরিচালনায় অংশ নেয় না। এ ধরনের অংশীদারের দায় অন্যদের মতো অসীম। এরূপ অংশীদার ব্যবসায় থেকে অবসর নিলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

উদ্দীপকে বকুল, মুকুল ও শিমুল চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় স্থাপন করে। তারা সবাই মূলধন বিনিয়োগ করে। কিন্তু বকুল ও মুকুল ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিলেও শিমুল অংশ নেয়নি। বছর শেষে সে অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে।

উদ্দীপকের জনাব শিমুল একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এক্ষেত্রে অন্যদের মতো সে মূলধন বিনিয়োগ করে। অসীম দায় ভোগ করে কিন্তু সে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। তারপরও অন্যদের মতো তার সমান মুনাফা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই বলা যায়, জনাব শিমুল অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।

 প্রশ্ন:৩৮ আবির, আসাদ ও আলমাস তিন বন্ধু মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে ‘নিত্য চাহিদা’ নামে একটি বিভাগীয় বিপণি শুরু করলো। তারা সবাই মিলে এ ব্যবসায়ের পুঁজির যোগান দিয়েছে এবং পালাক্রমে পরিচালনা করছে। ব্যবসায়টি লাভজনক হওয়ায় তারা সবাই মিলে এর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। ব্যাংক সববিষয়ে সন্তুষ্ট হলেও সবার মধ্যে ঐক্যমত প্রমাণ করে এমন একটি বিশেষভাবে লিখিত দলিলের অভাবে ঋণ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে।

                [সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ, ফেনী]

 ক.         প্রত্যক্ষ সেবা কী?              ১

 খ.          সীমাবদ্ধ অংশীদার বলতে কী বোঝায়?    ২

 গ.          উদ্দীপকে উল্লিখিত তিন বন্ধুর ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।        ৩

 ঘ.          উদ্দীপকের বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ প্রদানে অপারগতা কতটুকু যৌক্তিক? মূল্যায়ন করো।               ৪

৩৮ নং প্রশ্নের উত্তর

ক মুনাফা অর্জনের উদ্দশ্যে সরসারি সেবা দেয়ার কাজকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। যেমন : ডাক্তারি, ওকালতি প্রভৃতি।

খ চুক্তি অনুযায়ী যে অংশীদারের দায় সীমিত তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।

সীমাবদ্ধ অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা পেয়ে থাকে। এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায়ের হিসাবপত্র দেখার অধিকার পায়।

গ উদ্দীপকে তিন বন্ধুর ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্তর্গত।

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করা হয়। এ ব্যবসায়ের মূলভিত্তি চুক্তি। সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য সংখ্যা সর্বনিু ২ জন সর্বোচ্চ ২০ জন। ব্যাংকিং ব্যবসায়ে সর্বোচ্চ ১০ জন।

উদ্দীপকে আবির, আসাদ ও আলমাস তিন বন্ধু মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে ‘নিত্য চাহিদা’ নামে একটি বিভাগীয় বিপণি ব্যবসায় শুরু করলো। তারা সবাই মিলে এ ব্যবসায়ের পুঁজির যোগান দিয়েছে। পালাক্রমে নিজেরাই পরিচালনা করছে। এখানে এ ব্যবসায় সদস্য সংখ্যা তিনজন রয়েছে। তারা চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিভাগীয় বিপণি ব্যবসায় শুরু করেছে। এছাড়াও অংশীদাররা একে অন্যের ওপর আস্থাবান হয়ে ব্যবসায়টি পরিচালনা করছে। সুতরাং বলা যায়, তিন বন্ধুর ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়।

ঘ উদ্দীপকে অংশীদারদের চুক্তিপত্র না থাকার কারণে ব্যাংক ঋণ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা আমি যৌক্তিক বলে মনে করি।

অংশীদারদের চুক্তির বিষয়বস্তু এ দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়। চুক্তিপত্র তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা মৌখিক, লিখিত, লিখিত ও নিবন্ধিত। তবে অংশীদারি ব্যবসায়ে চুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক। চুক্তি ছাড়া এ ব্যবসায়ে গঠন করা যায় না। অংশীদারদের চুক্তি লিখিত হওয়া উত্তম।

উদ্দীপকে তিন বন্ধু মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে ‘নিত্য চাহিদা’ নামে একটি বিভাগীয় বিপণি ব্যবসায় আরম্ভ করলো। তারা সবাই মিলে ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। লিখিত দলিল না থাকার কারণে ব্যাংক ঋণ দেয়ায় অপারগতা প্রকাশ করে। অংশীদারদের লিখিত চুক্তিপত্র প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। এতে ভুল বোঝাবুঝি কম হয়। এ ধরনের চুক্তিপত্রে আইনগত স্বীকৃতি পাওয়া যায়।

চুক্তিপত্র অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল সংবিধান হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে ব্যবসায় পরিচালনা যেন জটিল না হয় তাই চুক্তি পত্রে অংশীদারদের নাম, ঠিকানা, পেশা, মূলধন, দায় ইত্যাদি উল্লেখ্য থাকে। কিন্তু মৌখিক চুক্তির আইনগত স্বীকৃতি নাই। তাদের কাছে প্রামাণ্য কোনে দলিল থাকে না। তাই আমি মনে করি, ব্যাংক তাদের প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.